“আমার প্রিয় কমরেড…”-রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে পূর্ণ সমর্থন কিম জংয়ের

উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি আবারও পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন, এবং তাকে ‘প্রিয় কমরেড’ ও ‘প্রিয়তম বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর পাশাপাশি, পিয়ংইয়ং প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে লড়াই করার জন্য তাদের সেনা পাঠিয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘রাশিয়া দিবস’ উপলক্ষে পুতিনকে পাঠানো এক বার্তায় কিম দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসা করেন। কিমকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “ডিপিআরকে (ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অফ কোরিয়া)-রাশিয়া সম্পর্ককে ত্বরান্বিত করা।” এই বার্তাটি এমন এক সময়ে এল যখন আন্তর্জাতিক মহলে ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক সহায়তার বিষয়ে জল্পনা চলছিল।

উত্তর কোরিয়ার নেতা ধারাবাহিকভাবে রাশিয়াকে সমর্থন করে আসছেন। এর আগেও কিম পুতিনকে নিঃশর্ত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কেসিএনএ-র এক পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল, পুতিনের প্রধান নিরাপত্তা সহকারী সের্গেই শোইগুর সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ে এক বৈঠকে কিম বলেছিলেন যে, উত্তর কোরিয়া “সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিষয়ে রাশিয়া এবং তার বৈদেশিক নীতিকে নিঃশর্তভাবে সমর্থন করবে।”

জানা গেছে, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় কমপক্ষে ১০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছিল। রাশিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ব্যবহার করে ইউক্রেনের অসামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস করে এবং কিভ ও জাপোরিঝিয়ার মতো জনবহুল এলাকায় আক্রমণ করে। এক প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের শেষের দিকে পিয়ংইয়ং পূর্ব রাশিয়ায় ১১ হাজারেরও বেশি সেনা মোতায়েন করেছিল।

উত্তর কোরিয়ার এই নিশ্চিতকরণ ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিল যে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে, যদিও উভয় দেশই তা অস্বীকার করে আসছিল। কিমের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াবে এবং নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।