শেষরক্ষা হল না ‘ফুলটুসি’র, গোপন আস্তানা থেকে অবশেষে গ্রেফতার শ্বেতা ও তার ছেলে

সোদপুরের এক তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে ধরা পড়লেন ডোমজুড়ের ‘পর্ন সম্রাজ্ঞী’ শ্বেতা খান ওরফে ফুলটুসি বেগম। বুধবার (১২ জুন, ২০২৪) সন্ধ্যায় আলিপুরের এক গোপন আস্তানা থেকে তাকে গ্রেফতার করে হাওড়া সিটি পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই কলকাতার গল্ফগ্রিন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তার ছেলে আরিয়ান খানকে। পুলিশের ধারণা, মা ও ছেলেকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করলে সোদপুরের তরুণী নির্যাতনের ঘটনা এবং পর্ন ছবির কারবার সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আরিয়ান খানকে গল্ফগ্রিন থেকে গ্রেফতারের পর তার মোবাইল ফোন ট্র্যাক করেই শ্বেতা খানের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। আরিয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই পুলিশ শ্বেতার আলিপুরের আস্তানার খবর পায়। এরপরই দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করা হয়। শ্বেতার কাছ থেকে নগদ টাকাও উদ্ধার হয়েছে বলে খবর, যদিও টাকার অঙ্ক এখনো জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার শ্বেতা খান ও আরিয়ান খানকে হাওড়া আদালতে পেশ করা হবে।

সোদপুরের যে তরুণীকে নির্যাতনের অভিযোগে শ্বেতা ও আরিয়ান গ্রেফতার হয়েছেন, তিনি বর্তমানে সাগর দত্ত হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ বলে জানা গেছে। অভিযোগ, বড় প্রোডাকশন হাউসে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীকে ফাঁদে ফেলা হয়। এরপর তাকে সেক্স র‍্যাকেটে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় তার ওপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়।

এই ঘটনায় আরিয়ানের দিদা অর্থাৎ শ্বেতার মাকেও বুধবার সকালে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া, আরিয়ানের সহযোগী জোয়াকেও আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। গত শনিবার শ্বেতা খানের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ সামনে আসে। সোদপুরের যুবতী দাবি করেন, শ্বেতা ও আরিয়ান তাকে অন্য কাজের টোপ দিয়ে নিয়ে গিয়ে বারে নাচতে বাধ্য করেছিলেন। রাজি না হওয়ায় তার উপর অত্যাচার চলে বলেও অভিযোগ। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই শ্বেতা-আরিয়ানের পর্ন ছবির কারবার প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকেই মা-ছেলেকে খুঁজছিল পুলিশ। পুলিশ ধারণা করছে, শ্বেতা আলিপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছিল এবং সেখান থেকে বাইরে কোথাও পালিয়ে যাওয়ার ছক কষছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়তে হলো তাকে।