পরপুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক আছে স্ত্রী-র? ৪ সন্তানকে নিয়ে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ স্বামীর

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে চরম সিদ্ধান্ত নিলেন এক বাবা। স্ত্রী’র বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে নিজের চার সন্তানকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিলেন মনোজ মাহাতো (৩৫) নামের এক দিনমজুর। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে দিল্লির ফরিদাবাদে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে, যা এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মনোজ মাহাতো বিহারের বাসিন্দা। কর্মসূত্রে ফরিদাবাদে দিনমজুরের কাজ করতেন। বুধবার সকালে স্ত্রী’র সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হয়। এরপর তিনি ‘পার্কে যাচ্ছি’ বলে চার সন্তানকে (বয়স ৩, ৫, ৯ ও ১০) নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে ছিল রেললাইন। সেখানেই মনোজ চলন্ত গোল্ডেন টেম্পল এক্সপ্রেসের সামনে সন্তানদের নিয়ে ঝাঁপ দেন। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনেরই মৃত্যু হয়।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে যে, মনোজের স্ত্রী’র বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে তাঁর সন্দেহ ছিল। এই বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই অশান্তি লেগে থাকত। যদিও মনোজের স্ত্রী অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, একজন দূর সম্পর্কের ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতেন, যা মনোজ একেবারেই সহ্য করতে পারতেন না এবং তা নিয়েই তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হতো।

দুর্ঘটনার পর গোল্ডেন টেম্পল এক্সপ্রেসের লোকো পাইলট স্থানীয় স্টেশন প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং দেহগুলো উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ট্রেন আসার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে থেকেই মনোজ তাঁর সন্তানদের নিয়ে রেললাইনের কাছে বসেছিলেন। সন্তানদের হাতে ছিল চিপস ও কোল্ড ড্রিঙ্ক। তারা বাবার কাছে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য কাকুতি-মিনতি করছিল, কিন্তু মনোজ কোনো কথা কানে তোলেননি এবং চলন্ত ট্রেনের সামনে তাদের নিয়ে ঝাঁপ দেন।

স্থানীয় থানার পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “গোল্ডেন টেম্পল এক্সপ্রেসে কাটা পড়ে ৫ জন নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে মৃত ব্যক্তির আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে, যা থেকে তাঁর নাম মনোজ মাহাতো বলে জানা গেছে। এছাড়া মৃতের স্ত্রীর ফোন নম্বরও উদ্ধার হয়েছে। দেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং বুধবারই দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।”

এই ঘটনা পারিবারিক কলহ এবং মানসিক অবসাদের এক ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরেছে, যা সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।