ট্রেনের তৎকাল টিকিট বুক হবে না যদি এই কাজ না করেন, জেনেনিন কবে থেকে চালু হচ্ছে নিয়ম ?

ভারতীয় রেল তার যাত্রীদের জন্য এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছে, যা রেল যাত্রার অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা দেবে। আগামী ১ জুলাই, ২০২৫ থেকে তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে আধার অথেন্টিকেশন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, ট্রেন ছাড়ার ২৪ ঘণ্টা আগেই কনফার্মড আসনের চার্ট প্রকাশের নতুন ব্যবস্থাও কার্যকর হতে চলেছে, যা যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা লাঘব করবে।
রেল মন্ত্রক আজ এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে, যা রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের পূর্বঘোষিত একটি পদক্ষেপ। গত ৪ জুন রেলমন্ত্রী তাঁর এক্স (পূর্বতন টুইটার) অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে জানিয়েছিলেন যে, ভারতীয় রেল শীঘ্রই তৎকাল টিকিট বুক করার জন্য ই-আধার অথেন্টিকেশন ব্যবহার শুরু করবে। তিনি এর সুবিধা ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন যে এই ব্যবস্থা নিশ্চিত টিকিট পেতে সাহায্য করবে। এখন রেল মন্ত্রক সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের তারিখ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে: ১ জুলাই থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে।
বর্তমানে আইআরসিটিসি-এর ১৩ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী থাকলেও, আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশই আধার ভেরিফায়েড। এই পরিস্থিতিতে তৎকাল টিকিট বুকিং প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে রেল এই নিয়ম কঠোর করেছে। ১ জুলাই থেকে শুধুমাত্র আধার ভেরিফায়েড আইআরসিটিসি অ্যাকাউন্টগুলিই অনলাইন তৎকাল টিকিট বুকিং করার অনুমতি পাবে এবং এর জন্য আধার ভিত্তিক ওটিপি অথেন্টিকেশন প্রয়োজন হবে।
এছাড়াও, ১ জুলাই থেকে আরও একটি বড় পরিবর্তন আসছে। এতদিন পর্যন্ত ট্রেন ছাড়ার মাত্র চার ঘণ্টা আগে যাত্রীরা জানতে পারতেন তাঁদের টিকিট কনফার্মড হয়েছে কিনা। এটি বিশেষত দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ ছিল, কারণ ওয়েটিং লিস্টের দীর্ঘ সারি প্রায়শই অনিশ্চয়তা বাড়াতো।
এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে রেলওয়ে একটি নতুন সিস্টেমে কাজ শুরু করেছে। এর মাধ্যমে, এখন ট্রেন ছাড়ার ২৪ ঘণ্টা আগেই কনফার্মড আসন সহ চার্ট প্রকাশ করা হবে। এর ফলে, যাত্রীরা টিকিট কনফার্মড হলো কিনা, তা অনেক আগেই জানতে পারবেন এবং যদি টিকিট কনফার্মড না হয়, তবে তাদের কাছে পরিবহনের অন্যান্য উপায় ব্যবহারের কথা ভাবার জন্য যথেষ্ট সময় থাকবে। রাজস্থানের বিকানের বিভাগে এই নতুন ব্যবস্থার পাইলট রান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা এই পরিবর্তনের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে।
রেলওয়ের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ দেশের কোটি কোটি যাত্রীর জন্য একটি বড় স্বস্তি বয়ে আনবে। এটি শুধুমাত্র টিকিট বুকিং প্রক্রিয়াকে আরও সরল ও স্বচ্ছ করবে না, বরং যাত্রীদের যাত্রা পরিকল্পনাকেও অনেক সহজ করে দেবে। ভারতীয় রেলের এই আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টা যাত্রীদের কাছে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।