কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি বাংলাদেশি? নির্বাচনে লড়াই করেছেন TMC-র হয়েও!

কাকদ্বীপের নিউটন দাস বিতর্ক এখনও টাটকা। এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বিতর্ক, যা এবার বনগাঁর একটি কলেজের পরিচালন সমিতিকে ঘিরে। উত্তর ২৪ পরগনার নহাটা যোগেন্দ্র নাথ কলেজে, কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি হিসেবে আলোরানি সরকার-এর উপস্থিতি নিয়ে শোরগোল পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ব্যক্তি একইসাথে বাংলাদেশের নাগরিক এবং ভারতের একটি কলেজের গুরুত্বপূর্ণ পদে ‘বিধায়ক’ পরিচয়ে নিযুক্ত!
আলোরানি সরকার ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন। যদিও তিনি বিজেপি প্রার্থী স্বপন মজুমদারের কাছে হেরে গিয়েছিলেন, অভিযোগ উঠেছে যে শিক্ষা দফতর থেকে জারি করা নির্দেশিকায় তাকে ‘বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করে নহাটা যোগেন্দ্র নাথ কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি করা হয়েছে। ২০২১ সাল থেকেই তিনি এই পদে রয়েছেন এবং এই নির্দেশিকার মেয়াদ আগামী ৩০ জুন, ২০২৫ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এই ঘটনায় কলেজের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে শাসক এবং বিরোধী উভয় পক্ষই প্রশ্ন তুলেছে। এলাকার বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার এই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছেন।
বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন যে আলোরানি সরকার একজন বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি এই মর্মে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও করেছিলেন, যেখানে প্রমাণ হয় যে আলোরানি সরকারের বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। স্বপন মজুমদার প্রশ্ন তুলেছেন, “কীভাবে একজন বাংলাদেশের নাগরিক এদেশের কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি হতে পারেন?”
এই বিষয়ে কলেজের প্রিন্সিপাল গণমাধ্যমের সামনে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে আলোরানি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অসহযোগিতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। আলোরানি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলার অজুহাতে সংবাদ মাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
বনগাঁ জেলা তৃণমূলের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন এবং দলকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন। প্রয়োজনে আগামীতে আবারও জানাবেন এবং দল অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। কলেজের একাধিক ছাত্রের বক্তব্য, আলোরানি নির্বাচনে হেরে গেছেন, অথচ তার নামের পাশে এখনও ‘MLA’ লেখা আছে। পাশাপাশি, একজন বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে কলেজের সভাপতি হওয়ার ঘটনায় কলেজের ঐতিহ্য নষ্ট হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।
এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বাংলাদেশি নাগরিকত্বের বিতর্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।