‘রাগ সামাল দেওয়ার ক্লাসে যাওয়া উচিত গ্রেটার’- বড় পরামর্শ ট্রাম্পের, আর কী বললেন?

পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গকে ‘রাগ সামাল দেওয়ার ক্লাসে’ যাওয়ার পরামর্শ দিলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি গ্রেটা দাবি করেন যে, তাঁকে ইজরায়েলি সেনা অপহরণ করেছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গ্রেটাকে কী বার্তা দেবেন জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি ফ্রিডম ফ্লোডিলা (Freedom Flotilla) সংগঠনের পক্ষ থেকে গাজায় জরুরি ত্রাণ নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন গ্রেটা থুনবার্গ ও আরও বেশ কয়েকজন সমাজকর্মী। তাঁরা ‘মেডেলিন’ নামের একটি জাহাজে করে রওনা দেন। অন্যদিকে, ইজরায়েল আগেই জানিয়েছিল যে তারা গাজায় কোনো ধরনের অস্ত্র বা সন্দেহজনক সামগ্রী প্রবেশ করতে দেবে না এবং গ্রেটার জাহাজকেও আটকানো হবে।
ইতালির সিসিলি থেকে জুনের গোড়ার দিকে রওনা দিয়েছিলেন গ্রেটা। সোমবার ভোর নাগাদ ইজরায়েল নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্রেটাসহ ১২ জন সমাজকর্মীকে আটক করে। এরপর তাদের জাহাজকে ইজরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে আসা হয়। এই ঘটনার পরই গ্রেটার পক্ষ থেকে বার্তা আসে যে, তাঁকে নাকি অপহরণ করা হয়েছে।
গ্রেটার সঙ্গে ত্রাণ হিসেবে ছিল আটা, চাল, ডায়াপার, মহিলাদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। উল্লেখ্য, গ্রেটার ওই ভিডিওটি আগে থেকেই রেকর্ড করা ছিল। ইজরায়েলি বাহিনী তাদের কবজা করলে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি পোস্ট করার বন্দোবস্তও করা ছিল। ভিডিওতে বলা হয়, ‘আপনি যদি এই ভিডিওটি দেখেন, তাহলে বুঝবেন ইজরায়েলি বাহিনী আমাদের আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকে রেখেছে এবং অপহরণ করছে।’
গ্রেটা তার বার্তায় আরও বলেন, ‘আমি আমার সমস্ত বন্ধু, পরিবার এবং সহকর্মীদের অনুরোধ করছি যেন তারা আমাকে এবং অন্যদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মুক্তি দেওয়ার জন্য সুইডিশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করেন।’
গ্রেটার প্রসঙ্গ উঠলে ট্রাম্প অবশ্য প্রথমেই এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি। তবে পরে তিনি গ্রেটাকে নিয়ে বেশ কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের কথায়, ‘গ্রেটা খুব অদ্ভুত ধরনের রাগী মানুষ। অবশ্য এটা সত্যিকারের রাগ কি না জানি না। ওর রাগ সামাল দেওয়ার ক্লাসে যাওয়া উচিত। তাছাড়া আমার মনে হয়, গ্রেটাকে অপহরণ করা ছাড়াও ইজরায়েলের বহু সমস্যা রয়েছে।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে, কারণ গ্রেটা থুনবার্গ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে আগেও মতবিরোধ দেখা গেছে।