প্রলোভনের ফাঁদ, ঘনিষ্ঠ মুহুর্তের ছবি, ভিডিয়ো দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল…স্বামীর মর্মান্তিক পরিণতিতে স্ত্রী যা বললেন

প্রথমে প্রলোভন ও ঘনিষ্ঠতা, তারপর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল। এই ব্ল্যাকমেলের চাপ সহ্য করতে না পেরে মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক। মালদহের বামোনগোলায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত মহিলা গা ঢাকা দিয়েছেন এবং মৃত যুবকের স্ত্রী সুবিচারের আশায় মালদা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সামাজিক মাধ্যমে আলাপচারিতার মাধ্যমে। অভিযোগ, প্রতিমা বিশ্বাস নামে এক মহিলা মনোজিৎ মণ্ডল নামে ওই যুবকের সঙ্গে প্রথমে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। এরপর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি, ভিডিও এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ব্যবহার করে মনোজিৎকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করেন। মৃত যুবকের স্ত্রী যুথিকা অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামীকে দিনের পর দিন ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হত এবং প্রতিমা মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন। তাঁদের ওপর চাপ এবং টাকার অঙ্ক ক্রমশ বাড়ছিল। এই পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে মনোজিৎ নদীর ধারে গিয়ে কীটনাশক সেবন করেন।

আত্মহত্যার আগে মনোজিৎ নিজেই মোবাইলে একটি ভিডিও রেকর্ড করেন, যেখানে তিনি কীটনাশক খাচ্ছেন বলে দেখা যায়। মৃত্যুর আগে তিনি সেই ভিডিও অভিযুক্ত প্রতিমা বিশ্বাসের নির্দিষ্ট নম্বরে পাঠান।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মানুষ অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন। অভিযুক্ত মহিলা ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন।

মৃতের স্ত্রী যুথিকা প্রথমে বামোনগোলা থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও, অভিযুক্ত মহিলা গ্রেফতার না হওয়ায় এবং তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি মালদা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হন এবং সেখানে পুনরায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সুপার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বামোনগোলা থানার আইসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ জোর কদমে অভিযুক্তদের খোঁজে নেমেছে। গাজোল থানার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।