সোনম কি অন্তঃসত্ত্বা? তার গর্ভের সন্তান রাজার না রাজের? মেডিক্যাল রিপোর্টে বাড়ল রহস্য

ইন্দোরের ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলায় প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে, যা এই রহস্যকে আরও জটিল করে তুলছে। গত ৯ জুন উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে সোনম রঘুবংশীকে গ্রেফতার করার পর ঘটনার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায়। এতদিন যাকে ‘ভিকটিম’ মনে করা হচ্ছিল, সেই সোনমকেই এখন হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত বলা হচ্ছে। এই ঘটনায় সোনমের প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা-সহ আরও চারজনের নাম উঠে এসেছে।
এই চাঞ্চল্যকর মামলায় এবার নতুন মোড় নিয়েছে সোনমের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর। চিকিৎসকদের দল কর্তৃক পরিচালিত মেডিক্যাল পরীক্ষা এই ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। ২০২৫ সালের ৯ জুন তিন মহিলা চিকিৎসকের একটি দল সোনমের শারীরিক পরীক্ষা করেন। প্রাথমিক রিপোর্টে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা দুর্বল বলে জানা গেছে। সোনম ভীত থাকলেও তার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রেগন্যান্সি টেস্টের ফলাফল ‘সন্তোষজনক নয়’, যার অর্থ সোনম গর্ভবতী কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
নিউজ ১৮-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসকরা সাত দিন পর পর সোনমের আল্ট্রাসাউন্ড করার পরামর্শ দিয়েছেন যাতে তার অবস্থা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। এই অস্পষ্টতা তদন্তকে আরও জটিল করে তুলছে। সোনম যদি সত্যিই অন্তঃসত্ত্বা হন, তাহলে এই সন্তান রাজা রঘুবংশীর নাকি প্রেমিক রাজ কুশওয়াহার – এই প্রশ্ন নতুন এক জটিলতার জন্ম দিয়েছে, যা তদন্তকারীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে ইন্দোরে রাজা ও সোনমের বিয়ে হয়। গত ২০ মে তারা মধুচন্দ্রিমার জন্য মেঘালয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। গত ২৩ মে সোহরা (চেরাপুঞ্জি) থেকে দু’জনেই নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর ২ জুন ওয়েসোডং জলপ্রপাতের কাছে একটি গভীর খাদে রাজার মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করে তদন্ত শুরু করে। অবশেষে, গত ৯ জুন উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরের একটি ধাবায় সোনমের খোঁজ মেলে এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। সোনমের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি এখন এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।