“ভারতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাবেন না”- বাংলাদেশে ইউনূস সরকারের অ্যাডভাইজারি জারি

বিশ্বজুড়ে যখন নতুন করে করোনার ঢেউ মাথাচাড়া দিচ্ছে, তখন অনেক দেশই বিদেশ থেকে আসা নাগরিকদের স্ক্রিনিং ও কোভিড টেস্টে জোর দিচ্ছে। ঠিক তখনই এক অদ্ভুত পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের নাগরিকদের ভারতে অপ্রয়োজনে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘ভারতে বেড়েছে করোনা সংক্রমণ’। বাংলাদেশের এই অপ্রত্যাশিত অ্যাডভাইসরি নিয়ে ভারতে শুরু হয়েছে তীব্র উপহাস।
উপহাসের কারণ: বাস্তবতা বনাম পরামর্শ
বাংলাদেশের এই নির্দেশিকাটি হাস্যকর ঠেকছে এর প্রেক্ষাপটের কারণে। প্রতিদিন অসংখ্য বাংলাদেশি নাগরিক চিকিৎসা, কর্মসংস্থান বা অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে ভারতে আসেন। তাদের এই যাতায়াত দীর্ঘদিনের এবং অপরিহার্য। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) করোনার এই নতুন ভ্যারিয়েন্টকে মহামারী হিসেবে ঘোষণা করেনি বা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করারও কোনো পরামর্শ দেয়নি। চিকিৎসকরা একে বরং একটি সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা হিসেবেই দেখছেন। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ‘আগ বাড়িয়ে’ ভারতকে সংক্রমণের কেন্দ্র হিসেবে দেখিয়ে নিজেদের নাগরিকদের উপর এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন এর যৌক্তিকতা নিয়ে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, করোনা মোকাবিলায় দেশের সমস্ত বিমানবন্দরে হেলথ স্ক্রিনিং জোরদার করা হবে। আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রীদের মাধ্যমে যাতে করোনার সংক্রমণ না ছড়ায়, সে কারণে ভারত সহ ‘অন্যান্য সংক্রামক দেশে’ প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং সেখানে ওমিক্রন JN.1 ভ্যারিয়েন্টের XFG প্রজাতির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশিকা: বিস্তারিত
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জারি করা অ্যাডভাইসরিতে নাগরিকদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে:
- হাত ধোয়া: দিনে ৭ বার প্রয়োজনমতো ২৩ সেকেন্ড করে হাত ধুতে হবে।
- মাস্কের ব্যবহার: নাক-মুখ ঢাকা মাস্ক ব্যবহার করুন।
- সামাজিক দূরত্ব: আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে ৩ ফুট দূরে থাকুন।
- পরিচ্ছন্নতা: অপরিষ্কার হাতে চোখ-নাক-মুখ স্পর্শ করবেন না।
- হাঁচি-কাশি: হাঁচি-কাশির সময়ে কাপড় বা টিস্যু দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন।
এছাড়াও, দেশের সার্বিক করোনা মোকাবিলায় আরও কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছে:
- জল, স্থল ও নৌপথে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের হেলথ স্ক্রিনিং জোরদার করা।
- দেশের পয়েন্টস অব এন্ট্রিতে থার্মাল স্ক্যানার/ডিজিটাল থার্মোমিটারের ব্যবস্থা রাখা।
- স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে মাস্ক, গ্লাভস এবং পিপিই মজুত রাখা।
- ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য রোগ প্রতিরোধ নির্দেশিকার প্রচার।
- জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভারত ও অন্যান্য সংক্রামক দেশে যাত্রা থেকে বিরত থাকুন।
নির্দেশিকাকে ঘিরে বিতর্ক ও জনমতের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে ‘সংক্রামক দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করে এমন একটি নির্দেশিকা জারি করা নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে একটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ভারতের করোনা পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করছে না, তখন বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এটি কূটনৈতিক দিক থেকে একটি অপরিপক্ক পদক্ষেপ, যা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দিতে পারে।