“অতো ভাল ছেলে আমি নই”-সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রসঙ্গে কুণাল যা বললেন

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সক্রিয় উপস্থিতির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর পোস্টগুলিতে যেমন নানান গঠনমূলক আলোচনা হয়, তেমনই দেখা যায় ব্যক্তিগত আক্রমণও। এই ধরনের আক্রমণের বিরুদ্ধে কুণাল ঘোষের পাল্টা জবাবের নিজস্ব শৈলী রয়েছে, যা প্রায়শই শিরোনামে আসে। সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন।
কুণাল ঘোষের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলিতে প্রায়শই বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য আসে। এর মধ্যে কিছু মন্তব্য গঠনমূলক বা প্রশ্নমূলক হলেও, একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং কুরুচিপূর্ণ ভাষা। কুণাল এই ধরনের বাছাই করা শব্দবন্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণকারীদের পাল্টা জবাব দিতে দ্বিধা করেন না। তাঁর এই প্রতিক্রিয়াগুলো কখনও তীক্ষ্ণ, কখনও শ্লেষাত্মক, কিন্তু প্রায়শই সরাসরি আক্রমণকারীদের উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দেওয়া হয়।
সাক্ষাত্কারে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কুণাল ঘোষের উত্তর ছিল স্পষ্ট এবং দ্ব্যর্থহীন। তিনি বলেন, “আমাকে কেউ ব্যক্তিগত আক্রমণ করলে, আমি চুপ করে বসে থাকব? অতো ভাল ছেলে আমি নই।” তাঁর এই উক্তি থেকে বোঝা যায় যে তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হলে তা নীরবে সহ্য করার পক্ষপাতী নন, বরং তার জবাব দিতে প্রস্তুত থাকেন।
কুণাল ঘোষের এই কৌশলটি বিতর্কিত হলেও, তাঁর অনেক অনুসারীই এই বিষয়ে তাঁর স্পষ্টবাদিতা এবং অনলাইন বুলিংয়ের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থানকে প্রশংসা করেন। তিনি শুধু মন্তব্যগুলো উপেক্ষা বা মুছে ফেলেন না, বরং তাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত হন, যদিও নির্বাচিত শব্দ ব্যবহার করে একটি সরাসরি পাল্টা আক্রমণ করেন।
সোশ্যাল মিডিয়া এখন রাজনীতিবিদদের জন্য শুধুমাত্র তথ্য প্রচারের মাধ্যম নয়, বরং সরাসরি জনগণের সাথে যোগাযোগ এবং কখনও কখনও সমালোচকদের সাথে বিতর্কে জড়ানোর একটি ক্ষেত্র। কুণাল ঘোষের সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় অবস্থান এই প্রবণতারই প্রতিফলন। একটি রাজনৈতিক পরিবেশে যেখানে অনলাইনে প্রায়শই আক্রমণাত্মক বাক্য বিনিময় দেখা যায়, কুণাল ঘোষের এই নিজস্ব শৈলী ডিজিটাল কথোপকথনে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। ব্যক্তিগত আক্রমণগুলো এড়িয়ে না গিয়ে সরাসরি তার মোকাবেলা করার তাঁর এই মানসিকতা প্রমাণ করে যে তিনি অনলাইন জগতেও একজন দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্ব, ঠিক যেমনটি তিনি ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে।