হলদিয়া থেকে উদ্ধার একের অধিক ‘উট’! কোথা থেকে এল এত উট? ফেরত পাঠানো হলো রাজস্থানে

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন আদালতের নির্দেশে হলদিয়া থেকে উদ্ধার হওয়া ১১টি পূর্ণবয়স্ক উটকে রাজস্থানের ক্যামেল রেসকিউ সেন্টারে পাঠিয়েছে। হলদিয়ার সুতাহাটা ও দুর্গাচক থানা এলাকা থেকে পাচার হওয়া এই উটগুলো পুলিশ উদ্ধার করেছিল। জেলার প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন বিভাগ ও হলদিয়া পুলিস-প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই উটগুলিকে তাদের স্বভূমিতে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
শুক্রবার রাতভর ক্রেনের সাহায্যে উটগুলোকে দুটি ট্রাকে ওঠানো হয়। এরপর ভোর ৪টে নাগাদ উটবোঝাই ট্রাক দুটি রাজস্থানের উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে উটবোঝাই ট্রাক দুটির সঙ্গে পুলিশ এসকর্ট রয়েছে।
উট পরিবহনে বিশেষ ব্যবস্থা
ট্রাকে সাদা বালির বেড তৈরি করে তার উপর উটগুলোকে চাপানো হয়েছে, যাতে যাত্রাপথে তাদের কোনো অসুবিধা না হয়। জেলা প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর উত্তমকুমার বিশ্বাস জানান, “পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের কাছে এ ধরনের অভিজ্ঞতা প্রথম। একসঙ্গে এতগুলি উটকে উদ্ধার করে তাদের পাঠানো রীতিমতো কঠিন কাজ। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে বলে কোচবিহার থেকে ‘ক্যামেল হ্যান্ডলার’দের আনা হয়েছিল। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও সহযোগিতা করেছে।”
দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য উটের ট্রাকের সঙ্গে একজন প্রাণী চিকিৎসকও পাঠানো হয়েছে। পর্যাপ্ত ছোলা, গুড় এবং অন্যান্য শুকনো প্রাণীখাদ্যও সরবরাহ করা হয়েছে। ট্রাকে উটদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের রিলিফ স্প্রে ও মলমও রাখা হয়েছে। উটের এই কনভয়ের সঙ্গে সুতাহাটা থানার একজন পুলিশ আধিকারিক এবং দুজন কনস্টেবলও রয়েছেন। জানা গেছে, উটগুলোর জন্য ২ কুইন্টাল ছোলা এবং ৫০ কেজি আখের গুড় দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ৪-৫ দিনের যাত্রাপথে ক্যামেল হ্যান্ডলাররা ছোলার সঙ্গে গুড় মাখিয়ে খাওয়াবেন। এছাড়া গাছের পাতাও তাদের খাদ্যের তালিকায় রয়েছে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় হলদিয়ায় উট উদ্ধার করে তাদের স্বভূমিতে পাঠাতে প্রায় ছয় লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিনপাঁচেক আগে হলদিয়ার সুতাহাটা থানা এলাকা থেকে ১০টি এবং দুর্গাচক থেকে ১টি উট উদ্ধার করা হয়। প্রহিবিশন অফ স্লটার অ্যান্ড রেগুলেশন অব টেম্পোরারি মাইগ্রেশন অর এক্সপোর্ট অ্যাক্ট, ২০১৫ অনুযায়ী উটগুলোকে আটক করা হয়। এরপর হলদিয়া মহকুমা আদালতের নির্দেশে দ্রুত উটগুলোকে রাজস্থানে পাঠানোর নির্দেশ আসে। হলদিয়ার এসডিপিও অরিন্দম অধিকারী জানান, এরপরই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উটগুলোকে রাজস্থান পাঠানো হয়েছে।
উটগুলো উদ্ধার করার পর পুলিশ ও সুতাহাটা প্রাণীসম্পদ দফতর কার্যত নাজেহাল হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে উটগুলো সুস্থ ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে উটগুলোকে গাড়িতে তোলার কাজ শুরু হয়। উটের সঙ্গে সেলফি তোলার জন্য রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল। শনিবার ছুটির দিনেও জেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর অফিস থেকে জিপিএস-এর মাধ্যমে উটের যাত্রাপথ তদারকি করেন।