শিলং হানিমুন রহস্য! স্বামী খুন করে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ, কী জানাল ধাবার মালিক?

শিলংয়ে মধুচন্দ্রিমা করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া সোনম রঘুবংশীকে অবশেষে ১৫ দিনের মাথায় গাজিপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, সোনম নিজেই পুলিশি জেরায় স্বীকার করেছেন, তিনি ভাড়াটে গুন্ডা দিয়ে স্বামী রাজা রঘুবংশীকে খুন করিয়েছেন।
ধাবা মালিকের সন্দেহ এবং পুলিশের তৎপরতা
রবিবার গভীর রাতে গাজিপুরের একটি ধাবায় সোনমকে দেখা যায়। ধাবার মালিক সাহিল যাদবের কাছে ফোন চেয়ে সোনম তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চান। সাহিল যাদব ইটিভি ভারতকে জানান, “গতকাল রাত ১টা নাগাদ সোনম এখানে আসে। ওকে খুব অস্থির দেখাচ্ছিল, কাঁদছিলও মাঝে মাঝে। আমি দেখেই চিনতে পারি ও সোনম, ইন্দোরের বাসিন্দা। সোনম কেন এত ঘাবড়ে রয়েছে তা দেখে আমার সন্দেহ হয়। ওকে বসতে বলি।” সোনমের বিধ্বস্ত চেহারা ও চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ দেখে সাহিল যাদবের সন্দেহ হয় এবং তিনি নিজেই পুলিশকে খবর দেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে সোনমকে নিয়ে যায়।
এখনও রহস্যের গভীরে
গ্রেফতারের সময় সোনমের চুল ছিল এলোমেলো এবং সে ময়লা কালো রঙের জামাকাপড় পরে ছিল, যা তার বিধ্বস্ত অবস্থারই ইঙ্গিত দেয়। এখন প্রশ্ন উঠছে, ২৫ মে থেকে নিখোঁজ সোনম স্বামীর মৃত্যুর পর এতদিন কোথায় ছিলেন? তিনি কী করছিলেন? শিলং থেকে গাজিপুরেই বা কীভাবে পৌঁছলেন? কেউ কি তাকে এখানে নিয়ে এসেছিল? স্বামীর খুনে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার অন্য কোনো যোগসূত্র আছে কি না? সোনমের সঙ্গে কি কোনো খারাপ ঘটনা ঘটেছে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও অধরা।
মেঘালয় পুলিশের তদন্তে নতুন মোড়
বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এই মামলার তদন্তভার মেঘালয় পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। ইউপি পুলিশ জানিয়েছে, সোনমকে মেঘালয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে, তারাই এই রহস্যের কিনারা করবে। এর আগে, শিলং পুলিশ ললিতপুর থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে। তারা সকলেই ইন্দোরের বাসিন্দা এবং একই পরিবারের সদস্য।
উল্লেখ্য, দিনপাঁচেক আগে মেঘালয়ের ওয়েই সোডং জলপ্রপাতের কাছের একটি গভীর খাদ থেকে রাজা রঘুবংশীর পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। ২০ মে রাজা ও সোনম ইন্দোর থেকে হানিমুনের উদ্দেশে শিলংয়ে রওনা দিয়েছিলেন। এরপর ২৫ মে থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন, যার মধ্যে সোনমকে গতকাল গাজিপুরে খুঁজে পাওয়া যায়।
এই ঘটনা একটি রোমহর্ষক সিনেমার চিত্রনাট্যের মতোই। সামনের দিনগুলোতে মেঘালয় পুলিশের তদন্তে আরও কী কী তথ্য উঠে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।