বিশেষ: প্রতিদিনই ‘অ্যালকোহলে চুমুক দিচ্ছে’ এসব পাখি, জেনেনিন কী বলছে গবেষকরা?

আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, পাকা ফল বা ফুলের রস খেয়ে পাখিরা শুধু চিনিই নয়, মাঝেমধ্যে অল্প পরিমাণে অ্যালকোহলেও চুমুক দিচ্ছে! সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। শুনতে হাস্যকর লাগলেও, বিজ্ঞানীরা বলছেন এই প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন অ্যালকোহল পাখির শরীরেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী সিনথিয়া ওয়াং-ক্লেপুল এবং তার সহকর্মীরা “দ্য প্রুফ ইজ ইন দ্য প্লামেজ” (The Proof is in the Plumage) শিরোনামে পরিচালিত এই গবেষণায় খতিয়ে দেখেছেন, চিনিযুক্ত খাবার যেমন পাকা ফল খাওয়া পাখিরা কি আরও বেশি মাত্রায় ইথানল-এর সংস্পর্শে আসে? ইথানল হলো গাঁজন হওয়া খাবার ও পানীয়তে প্রাপ্ত এক ধরনের অ্যালকোহল। গবেষণায় দেখা হয়েছে, এই অ্যালকোহলের প্রভাব পাখির শরীরে শনাক্ত করা যায় কিনা।

গবেষকরা তাদের পরীক্ষায় ইথাইল গ্লুকুরোনাইড (ETG) নামক একটি রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করেছেন। এটি এমন একটি পদার্থ যা অ্যালকোহল ভেঙে যাওয়ার পরও শরীরে থেকে যায়। মানুষের ক্ষেত্রে এটি অ্যালকোহল সেবনের একটি নির্ভরযোগ্য চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে, বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজের প্রতিবেদন অনুসারে, এই প্রথমবার পাখির শরীরে ETG নিয়ে পরীক্ষা করা হল।

গবেষণার জন্য, বার্কলির ‘মিউজিয়াম অফ ভার্টিব্রেট জুয়োলজি’-তে দান করা ১৭টি ভিন্ন প্রজাতির মৃত পাখির লিভার ও পালকের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, হামিংবার্ডের শরীরে ETG-এর উচ্চ মাত্রা রয়েছে। কারণ, এই পাখিগুলো মূলত পাকা ফল খায়, আর পাকা ফলের চিনি গাঁজন হয়ে অ্যালকোহল তৈরি করতে পারে। এর মানে হলো, হামিংবার্ড সম্ভবত গবেষকদের ধারণার চেয়েও বেশি পরিমাণে অল্প অ্যালকোহল সেবন করছে।

গবেষকরা আরও অবাক করা তথ্য পেয়েছেন। ETG কেবল হামিংবার্ডেই নয়, এমন কিছু পাখির শরীরেও মিলেছে যারা মূলত বীজ, পোকামাকড় বা অন্য ছোট আকারের প্রাণী খায়। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, কেবল চিনিপ্রেমী পাখিদের শরীরেই নয়, বরং অনেক ধরনের পাখির শরীরেই অ্যালকোহলের ছাপ থাকতে পারে।

শহরে থাকা হামিংবার্ডের শরীরে ETG-এর মাত্রা বেশি দেখা গেছে। এর একটি কারণ হতে পারে, শহরে মানুষরা অনেক সময় চিনি মেশানো পানি দেওয়া ফিডার ব্যবহার করেন। যদি এই ফিডারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করা হয়, তবে তাতে থাকা চিনি মেশানো পানি গাঁজন হয়ে অ্যালকোহলে পরিণত হয়, যা পাখিদের জন্য মদ্যপানের মতো হয়ে দাঁড়ায়।

গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন, অ্যালকোহল গ্রহণ পাখিদের আচরণ ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অল্প অ্যালকোহলও এদের ওড়াতে বাধা দিতে, শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে।

এই গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে, অনেক প্রজাতির পাখি আমাদের ধারণার চেয়ে বেশি বার অ্যালকোহলের সংস্পর্শে আসছে। তাই, এখন সময় এসেছে পাখিদের খাবারে আসলেই কী আছে, তা আরও ভালো করে জানার। এই যুগান্তকারী গবেষণাটি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘ইকোলজিক্যাল অ্যান্ড ইভোলিউশনারি ফিজিওলজি’-তে প্রকাশিত হয়েছে।