‘রাত কে হামসফর…,’ বার্লিনের প্রাসাদে পিনাকী ও মহুয়ার বল ডান্স, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও

‘রাত কে হামসফর, থক কে ঘর চলে। ঝুমতি আ রহি, এহ সুবহা প্যার কি…’ – এই চিরন্তন প্রেমের গানের সুরেই কোমর দোলালেন নববিবাহিত রাজনৈতিক দম্পতি মহুয়া মৈত্র এবং পিনাকী মিশ্র। বার্লিনের এক রাজকীয় প্রাসাদে হিন্দি গানের তালে তাঁদের বল ডান্সের ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। ম্যাঙ্গো সংস্থার প্রায় ২ লাখি বেনারসি শাড়ি আর হালকা সোনার গয়নায় বিজিডি-র প্রাক্তন সাংসদ পিনাকী মিশ্রর বাহুডোরে দেখা গেছে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে। কৃষ্ণনগরের সাংসদ নিজেই নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে শেয়ার করেছেন এই ভিডিও, যা নেটিজেনদের মুগ্ধ করেছে।
দেশের বাইরে চুপিসারে বিয়ে সেরেছেন এই দুই প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। আচমকাই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের বিয়ের ছবি ভাইরাল হতেই চমকে উঠেছিলেন সকলে। ৫১ বছর বয়সী মহুয়া এবং ৬৫ বছর বয়সী পিনাকীর এই “বোল্ড স্টেপ” নেওয়ার জন্য নেটিজেনরা তাঁদের তারিফ করছেন। নবদম্পতির জন্য বয়ে চলেছে শুভেচ্ছার বন্যা। সাধারণত খেলোয়াড়, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিদেশে বা দেশের কোনও প্রাচীন প্রাসাদ-কেল্লায় ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ দেখা গেলেও, দুই রাজনীতিবিদের এমন রাজকীয় বিয়ের আসর সচরাচর দেখা যায় না। ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, ভিড়ভাট্টা এড়াতেই তাঁরা বার্লিনকে বেছে নিয়েছেন।
তৎকালীন বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত মহুয়ার প্রথম বিয়ে টেকেনি। এরপর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জয় অনন্ত দেহাদ্রির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের তিক্ততা চরমে পৌঁছায়, এমনকি পোষ্য হেনরির কাস্টডি নিয়েও তাঁদের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলে। ব্যবসায়ী হিরানন্দানির সঙ্গেও তাঁর সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে বহু চর্চা হয়েছিল। সেই মহুয়াই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে সংবাদমাধ্যমের ‘একাকিত্বে ভোগেন’ – এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, ‘পিকচার অভি বাকি হ্যায়’। তাঁর সেই মন্তব্যের পরই পিনাকী এবং মহুয়ার এই নতুন সম্পর্ককে অনেকেই ‘দো দিল মিল রহে থে, মগর চুপকে চুপকে’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
বার্লিনের রাজপ্রাসাদে পিনাকী ও মহুয়ার হিন্দি গানের সঙ্গে বল ডান্সের সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই #newcouplegoal হ্যাশট্যাগে দেদার শেয়ার হতে শুরু করেছে। এই নবদম্পতি এখন দেশের রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তাঁদের এই নতুন জীবন কীভাবে রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।