“পাকিস্তান কোথায় বড়-কীসে বড়?”- ফিরহাদের ‘বড় দেশ’ মন্তব্যে তুমুল কটাক্ষ ভারতীর

‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতি নিয়ে রাজ্যের মেয়র ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্যে ফের নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। প্রধানমন্ত্রীকে ফিরহাদের কটাক্ষের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র ভারতী ঘোষ, যা পুরনো বিতর্ককে উসকে দিয়েছে এবং গভীর মতাদর্শগত বিভেদকে সামনে এনেছে।

শনিবার ফিরহাদ হাকিম দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী একটি “বড় দেশের” ভয়ে “কাপুরুষের মতো” ভারতীয় সেনাবাহিনীকে থামিয়ে দিয়েছেন। implicit ইঙ্গিত পাকিস্তানের দিকেই ছিল। ফিরহাদ বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের জীবন দিয়ে, তাদের ক্ষমতা দিয়ে পাকিস্তানকে যোগ্য জবাব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এখানে মহান কিছু করেননি। বরং, একটি বৃহৎ দেশের ভয়ে কাপুরুষের মতো সেনাবাহিনীকে থামানো হয়েছে, এটা ঠিক হয়নি। আমাদের সেনাবাহিনী ভারতের সম্মান রক্ষা করেছে। আমরা আজ তাদের স্যালুট জানাচ্ছি।” তাঁর এই মন্তব্যই বিতর্কের সূত্রপাত।

রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতী ঘোষ ফিরহাদের মন্তব্যের কড়া জবাব দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ফিরহাদ হাকিম সাহেব পাকিস্তানকে যে বড় দেশ হিসেবে দেখছেন, কোথায় বড়? কীসে বড়?” ভৌগোলিক তুলনা টেনে ভারতী বলেন, “পাকিস্তানের ল্যান্ড এরিয়া ৭ লক্ষ ৯৬ হাজার ৯৫ স্কোয়ার কিমি, সেখানে ভারতে ল্যান্ড এরিয়া ৩২ লক্ষ ৬৭ হাজার ২৬৩ স্কোয়ার কিমি। তাহলে ভৌগোলিক দিক দিয়ে পাকিস্তান বড় নয়। জনশক্তিতে বড় নয়। সেনাবাহিনী, অস্ত্র কীসে বড়? এমনকি ভারতবর্ষে সংখ্যালঘু যাঁরা রয়েছেন তাঁদের সংখ্যা পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের থেকে বেশি।”

ভারতী ঘোষ এখানেই থামেননি। তিনি ফিরহাদের পুরনো এক বিতর্কিত মন্তব্য টেনে আনেন। তিনি বলেন, “আজ কলকাতার প্রথম নাগরিক হঠাৎ পাকিস্তানপ্রেমী হয়ে উঠেছেন তা নয়। আগেও ডন পত্রিকার সাংবাদিককে নিজের নির্বাচন কেন্দ্র দেখিয়ে বলেছিলেন এটি মিনি পাকিস্তানের মতো।” ভারতী আরও অভিযোগ করেন যে ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, ইসলামে জন্মগ্রহণ না করা দুর্ভাগ্যজনক। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনার দলনেত্রী কিন্তু ইসলামে জন্মগ্রহণ করেননি। আপনি কি জানেন? ভারতের বায়ুসেনা মাত্র ২৫ মিনিটে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়…. সারা বিশ্ব থমকে দাঁড়িয়ে দেখেছে ভারতের অসামান্য জয়।”

প্রধানমন্ত্রীর ভয় পেয়েছেন – ফিরহাদের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে ভারতী ঘোষ বলেন, “যেখানে সমস্ত ভারতবাসী মিছিল করে ভারতীয় সেনার জয় জয়কার করছে। এখানকার প্রতিনিধি দল বিদেশে গিয়ে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বোঝাচ্ছে। সেখানে একজন কলকাতার প্রেমে গদগদ হয়ে বলছেন বড় দেশ তো, প্রধানমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন, তিনি নাকি ভয় পেয়ে সংঘর্ষবিরতি করেছেন। আমরা এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করছি। তিনি কীসের জন্য দুঃখ পেয়েছেন?”

তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য টেনে ফিরহাদকে কটাক্ষ করেন। ভারতী ঘোষ বলেন, “আপনার দলের সাংসদ তিনি জাপান ও সিঙ্গাপুরে বলেছেন পাকিস্তান পাগল কুকুরের হ্যান্ডলারে আর আপনি বলছেন পাকিস্তান বড় দেশ? পাকিস্তানে চলে যান…। ওই সাংসদের উচিত ফিরহাদ বাবুকে বোঝানো অপারেশন সিঁদুরের গুরুত্ব।” ভারতী ঘোষ আরও দাবি করেন যে ফিরহাদ হাকিম বিএসএফকেও অপমান করেছেন। এই চলমান বাগযুদ্ধ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে তুলে ধরে, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুগুলো প্রায়শই রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আগামী দিনগুলোতে এই তরজা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।