বাংলায় এবার কঙ্কাল কেলেঙ্কারি, মহাশ্মশান থেকে দিনের পর দিন লোপাট হচ্ছে মৃতদেহ?

ঐতিহ্যপূর্ণ নবদ্বীপ শহরে এবার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় শোরগোল পড়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, নবদ্বীপ মহাশ্মশানের সমাধি থেকে রাতের অন্ধকারে মৃতদেহের কঙ্কাল চুরি হচ্ছে। পচন ধরার পর মৃতদেহের অবশিষ্ট অংশ গাছপালায় বেঁধে ছাড়িয়ে পাচার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, নবদ্বীপ শ্মশানঘাট এলাকার ঠিক পিছনে বৈষ্ণবদের সমাধিস্থ করা হয়। শুক্রবার রাতে বেশ কিছু মানুষ সেখানে সমাধির কাজে গেলে এমন এক ভয়াবহ দৃশ্যের সাক্ষী হন। তারা ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি গর্ত দেখতে পান। শুধু তাই নয়, ওই এলাকার পাশেই থাকা জঙ্গলে কিছু পচনশীল মৃতদেহের অংশও পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে অভিযোগ। এই দৃশ্য দেখে সমাধিস্থ করতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি শ্মশান কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং মৃতদেহ চুরির অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই নবদ্বীপ মহাশ্মশানে এমন ঘটনা ঘটছে। পাশেই রয়েছে ভাগীরথী নদী, যা এই চক্রের পাচারের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা সামনে আসার পর দ্রুত থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। অভিযোগ পেয়েই পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সেখানে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এর পিছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কিনা?
এদিকে, এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলের অভিযোগ, নবদ্বীপের মহাশ্মশান যেহেতু পৌরসভা পরিচালিত, তাই এই ঘটনা সম্পর্কে পৌরসভার না জানার কোনো কারণ থাকতে পারে না। তাদের মতে, এটি পৌরসভার চরম গাফিলতির ফল।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায়, সমাধির মাটি গর্ত করা অবস্থায় রয়েছে এবং মানুষের পচন ধরা দেহাংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ভয়ের সৃষ্টি করেছে। নবদ্বীপের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী শহরে এমন অমানবিক ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশি তদন্তের পর এই কঙ্কাল কেলেঙ্কারির আসল রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।