“মাস্কের সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ!”-ডেমোক্র্যাটদের সাহায্য করলেই চরম ফলের হুঁশিয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

এককালের আলোচিত ‘ব্রোম্যান্স’ এখন তিক্ততার চরমে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং টেসলা প্রধান ইলন মাস্কের সম্পর্ক এখন আক্রমণের পাল্টা আক্রমণে শিরোনামে। প্রতিদিন একে অপরের বিরুদ্ধে কুৎসা আর হুমকি-ধমকিতে সরগরম মার্কিন রাজনীতি। তবে এই তিক্ততার মধ্যেই রয়েছে এক ‘টুইস্ট’!
বৃহস্পতিবার ইলন মাস্ক এপস্টাইন ফাইল নিয়ে একটি ‘বোমা’ ফাটানোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সেই পোস্ট ডিলিট করেন। এই পদক্ষেপ দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো সম্পর্কের বরফ গলবে। কিন্তু ট্রাম্পের সুর নরম হয়নি বরং আরও চড়েছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মাস্কের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই রাখতে চান না তিনি। শুধু তাই নয়, ইলনকে ‘চরম পরিণতি’ ভোগ করার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
“প্রেসিডেন্ট পদকে অপমান করেছেন মাস্ক”: ট্রাম্পের অভিযোগ
একটি টিভি সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইলন মাস্ক তাকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করেছেন। এমনকি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদেরও অসম্মান করেছেন টেসলা কর্তা, এমন দাবিও করেন ট্রাম্প। যদিও তিনি সরাসরি কোনো ঘটনার উল্লেখ করেননি, তবে মাস্কের এপস্টাইন ফাইল সংক্রান্ত মন্তব্যকেই যে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।
ট্রাম্পের মতে, ইলন মাস্ক নিজের বিপুল ধনসম্পদ ব্যবহার করে সেই বিলের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে পারেন, যে বিলের কারণে তাদের ‘ব্রোম্যান্স’-এ প্রথম ফাটল ধরেছিল। তবে এমন কোনো ভাবনা যেন মাস্কের মনেও না আসে, তাই আগেভাগেই একদা পরম বন্ধুকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “যদি মাস্ক রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের ফান্ডিং দিয়ে বাজেট বিলের বিপক্ষে ভোট দিতে উস্কান, তাহলে এর ফল ভালো হবে না। চরম পরিণতি ভোগ করবেন।”
সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের কোনো সম্ভাবনা নেই: ট্রাম্প
ইলন মাস্ক বিতর্কিত পোস্টটি মুছে ফেলার পর কি তাদের সম্পর্কের তিক্ততার বরফ গলবে? এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্পের সটান উত্তর, “এমন কোনো সম্ভাবনাই নেই। সম্পর্ক রাখা তো দূর, কথা বলারই কোনো ইচ্ছা নেই।”
দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির এই প্রকাশ্য রেষারেষি এখন মার্কিন রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একসময় যারা একে অপরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন, তাদের এই চূড়ান্ত শত্রুতা অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত। এখন দেখার বিষয়, এই সংঘাত আর কোন মোড় নেয় এবং ট্রাম্পের ‘চরম পরিণতি’র হুমকি ইলন মাস্কের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে।