“৫ টাকার পার্লে-জি বিস্কুটের দাম ২৩৪২!”- মেয়ের আবদারে নাজেহাল বাবার করুন কাহিনি ভাইরাল

বাবার তার সন্তানের প্রতি অগাধ ভালোবাসার এক হৃদয়স্পর্শী গল্প নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। নিজের একরত্তি মেয়ের পছন্দের ৫ টাকার পার্লে-জি বিস্কুটের জন্য গাজার বাসিন্দা মহম্মদ জাওয়াদকে খরচ করতে হয়েছে অবিশ্বাস্য ২৩৪২ টাকা। এই ঘটনা একদিকে যেমন খাদ্য সংকটে ধুঁকতে থাকা গাজার করুণ চিত্র তুলে ধরেছে, তেমনই অন্যদিকে বাবার ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

নাইনটিজ কিডের কাছে ‘পার্লে-জি’ মানেই নস্টালজিয়া। ‘জি’ মানে ‘জিনিয়াস’ – এই বিস্কুট ছোট-বড় সবার কাছেই ভীষণ প্রিয়। তবে ভারতীয় এই বিস্কুটের প্রতি গাজার শিশুদের এমন প্রবল টান যে, তা জানতে পেরে হতবাক হয়েছেন অনেকে। মহম্মদ জাওয়াদ, যিনি গাজার ধ্বংসস্তূপের মাঝেও নিজের মেয়ের হাসি দেখতে চান, তিনি তার মেয়ে রাভিফের জন্য এই অসাধ্য সাধন করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টে জাওয়াদ লিখেছেন, “অনেক অপেক্ষার পরে আমি রাভিফের পছন্দের বিস্কুট জোগাড় করতে পারলাম। দাম অনেক বেড়ে গেলেও রাভিফকে ওর পছন্দের বিস্কুট দিতে আমি না করতে পারিনি।” ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাভিফ আনন্দের সাথে তার হাতে পার্লে-জি বিস্কুটের প্যাকেট ধরে আছে।

জাওয়াদের পোস্ট থেকে জানা গেছে, যে পার্লে-জি বিস্কুটের দাম একসময় দেড় ইউরো ছিল, তা এখন ২৪ ইউরোতে পৌঁছেছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য ২৩৪২ টাকা! অর্থাৎ, সামান্য ৫ টাকার একটি বিস্কুটের প্যাকেট মেয়ের হাতে তুলে দিতে এই বাবাকে খরচ করতে হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার টাকা।

এই ঘটনা নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং ভারত সরকার ও পার্লে-জি প্রস্তুতকারক সংস্থাকে ট্যাগ করে গাজার শিশুদের জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এই পোস্ট থেকে। জানা গেছে, ভারত প্যালেস্তাইনে পার্লে-জি ত্রাণ হিসেবে পাঠিয়েছিল। কিন্তু হামাস সেই ত্রাণের ট্রাক লুঠ করে কালোবাজারে এগুলি বিক্রি করছে। এই মর্মান্তিক সত্য জাওয়াদ নিজেই তার পোস্টে তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, “কেউ কেউ ভাবছেন যা ত্রাণ আসে সেগুলি গাজায় ঠিকমতো বিলি করা হয়। কিন্তু দখলদারেরা অনেক চোর নিযুক্ত করেছে, যারা এগুলো নিয়ে বাইরে কালোবাজারে বিক্রি করে। এখানে ময়দা বিক্রি হয় ৫০০ ডলারে। প্রতি কেজি চিনি কিনতে লাগে ৯০ ডলার। যাঁরা কিনতে পারেন না, তাঁরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে খাবার জোগাড় করেন।”

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বর্তমানে তীব্র খাদ্য সংকট চলছে। অসংখ্য শিশু পুষ্টির অভাবে মৃতপ্রায়। অভিযোগ উঠেছে যে, ইজরায়েল গাজায় ত্রাণ ঢোকাতে নানা বাধা দিচ্ছে। এর ফলেই সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। এই পরিস্থিতিতে এক বাবার তার সন্তানের প্রিয় বিস্কুট জোগাড় করার জন্য এমন জানকবুল প্রচেষ্টা, নেটিজেনদের চোখে জল এনে দিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে গাজার অসহায় মানুষের প্রতি সহানুভূতির ঢেউ তুলেছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, ভালোবাসার কাছে কোনো বাধাই বড় নয়।