“ক্ষোয়া ক্ষীর দিয়ে তৈরি হবে জগন্নাথের প্রসাদ”- শুভেন্দুর কথার পাল্টা জবাব রাজ্যের

দিঘার নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের মহাপ্রসাদ রাজ্যের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৭ জুন থেকে উল্টোরথ পর্যন্ত এই প্রসাদ বিতরণের কথা থাকলেও, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপ্রচারের’ অভিযোগ তুলে দাবি করেন, ‘প্রসাদের নামে স্থানীয় মিষ্টি দোকান থেকে গজা, পেঁড়া নিয়ে বিতরণ করা হচ্ছে, দিঘা থেকে আসছে না।’ এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে রাজ্য সরকার পাল্টা জবাব দিয়েছে, এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও সুপরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ এবং ‘বিজেপি-র উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপ্রচার’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, “জগন্নাথ দেবকে নিবেদিত খোয়া ক্ষীর প্রতিটি প্রসাদে মিশবে। সঙ্গে থাকবে মন্দিরের ছবি। মিষ্টির দোকানে প্যারা বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে যেটা রটানো হচ্ছে, সেটা মিথ্যা। ধাপে ধাপে এই খোয়া কেন্দ্রীয়ভাবে জগন্নাথদেবের চরণে সমর্পণ করে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে। বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে সেই মহাপ্রসাদ মিশিয়ে মিষ্টি তৈরি হবে।” মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, এই মন্দির মানুষের টাকায় তৈরি হয়েছে এবং সেই মানুষের টাকাতেই এই মহাপ্রসাদ বাড়ি বাড়ি পৌঁছবে, যার প্রতিটির মূল্য ১০ টাকা করে (প্যাঁড়া এবং গজা)।
তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব শান্তনু বসু এই প্রক্রিয়ার বিশদ বিবরণ দেন। তিনি জানান, “সোমবারই এই মহাপ্রসাদের প্রসাদী খোয়া প্রথম কিস্তিতে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে পাঠানো হবে। তা জগন্নাথ দেবের শ্রীচরণে সমর্পণ করা হবে। সেই খোয়া মহাপ্রসাদ হলে জেলায় জেলায় পৌঁছে যাবে মিষ্টির দোকানে। মিষ্টি তৈরির সময় এই খোয়া মিশিয়ে দেওয়া হবে। মানুষের কাছে যখন সেটা যাবে সেটা প্রসাদ।” তিনি আরও যোগ করেন যে, রেশন ডিলারদের মাধ্যমেই এই প্রসাদ বিতরণ করা হবে এবং মিষ্টির গুণমান বজায় রাখতে কোয়ালিটি ইন্সপেক্টরও রাখা হয়েছে।
এছাড়াও, কেবলমাত্র হিন্দু পরিবারই এই প্রসাদ পাবে বলে শুভেন্দু অধিকারীর করা দাবিকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছেন ইন্দ্রনীল সেন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ধর্মনিরপেক্ষ একজন প্রশাসক ভারতে আর নেই। খালি হিন্দুদের প্রসাদ দেওয়া হবে বলে যে অপপ্রচার চলছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এরকম কোনও পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের নেই। এমন কোনও সার্কুলারও হয়নি।”
তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এই বিতর্কের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “দিঘার জগন্নাথ ধাম নিয়ে কুকথা বলার আগে যদি নিজেকে শুভেন্দু প্রকৃত হিন্দু মনে করেন, তাহলে একবার জগন্নাথদেবকে দর্শন করে আসুন। জগন্নাথে আস্থা রাখুন। আসলে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত দিঘার জগন্নাথ ধাম ঘিরে বাংলা তথা বাঙালির মধ্যে যে নয়া উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তাতে ভয় পেয়েছে বিজেপি।”
রাজ্য সরকারের এই বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং পাল্টা জবাবের পর, দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ বিতরণ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ কিছুটা প্রশমিত হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে, এই উদ্যোগকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ যে তুঙ্গে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।