“৪০ শতাংশই তৃণমূলের দেওয়া চাকরি করেন”-TMC-কাউন্সিলরদের তুলোধনা মদনের, জেনেনিন কেন?

এখানে নতুন খবরটি দেওয়া হলো:
মদন মিত্রের অগ্নিশর্মা মেজাজ: কামারহাটির কর্মিসভায় কাউন্সিলরদের তুলোধনা, শুরু রাজনৈতিক তরজা
কলকাতা, ৫ জুন, ২০২৪: কামারহাটির নজরুল মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মিসভায় এক নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হল যখন প্রবীণ তৃণমূল নেতা এবং বিধায়ক মদন মিত্র প্রকাশ্যেই দলের কাউন্সিলরদের তীব্র ভর্ৎসনা করলেন। তাঁর অভিযোগ, সভাস্থলে অনেকে অনুপস্থিত ছিলেন, আবার কেউ কেউ বক্তৃতার মাঝপথেই বেরিয়ে গিয়েছেন। এই ঘটনায় মদন মিত্রের মেজাজ সপ্তমে ওঠে।
মঞ্চে অভিনেত্রী-বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিধায়ক নির্মল ঘোষ-সহ তৃণমূলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মিসভায় যথেষ্ট ভিড় থাকলেও, মদন মিত্রের দাবি অনুযায়ী, সায়ন্তিকার বক্তৃতার সময় একের পর এক কাউন্সিলর নিজেদের আসন ছেড়ে বেরিয়ে যান। এমনকি, কয়েকজন নাকি একটানা পাঁচটি কর্মিসভাতেই অনুপস্থিত ছিলেন, যা মদন মিত্রকে আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে।
তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়ে মদন মিত্র সোজাসাপটা ভাষায় বলেন, “তৃণমূলের নাম আর কাউন্সিলর পদ সরিয়ে দিলে, এলাকায় কুকুরও আপনাদের কামড় দেবে। এখনই যদি তৃণমূলের জামাটা খুলে নেওয়া হয়, কী হবে তখন ভাবুন।” তাঁর এই মন্তব্য উপস্থিত সকলের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। তিনি আরও যোগ করেন, “যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করে দেন যে কামারহাটিতে তৃণমূল নেই, তখন কী করবেন আপনারা?” মদন মিত্র বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরকে “হরিদাস পাল” বলেও তিরস্কার করেন, যা তাদের প্রতি তাঁর চরম অসন্তোষের প্রকাশ।
কর্মিসভায় উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে ৪০ শতাংশ তৃণমূলের দেওয়া চাকরিতে কর্মরত বলে বিস্ফোরক দাবি করেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, “এই কর্মিসভায় যাঁরা আছেন, তাঁদের ৪০ শতাংশই তৃণমূলের দেওয়া চাকরি করেন। যাঁরা চাকরি পাননি, তারা কী ভাবছে, সেটাও ভাবা দরকার।” মদন মিত্রের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক তরজা ও বিজেপির কটাক্ষ:
মদন মিত্রের এই মন্তব্যের পরপরই বিজেপি এই ইস্যুতে তৃণমূলকে একহাত নিয়েছে। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, “ব্রাত্য বসুও আগে মেনে নিয়েছিলেন। একই কথা মদন মিত্র বললেন। বোঝাই যাচ্ছে, তৃণমূল মানে চাকরি বিক্রি করা সরকার। এবার নিজেদের লোকেরাই বলতে শুরু করেছেন। তৃণমূল যে চাকরিটা দিয়েছে সেটা স্মরণ করিয়ে দিতে হচ্ছে।”
তবে, মদন মিত্র স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তাঁর বক্তব্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে কেউ অভিযোগ জানালে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। তবে এর পাশাপাশি, অভিযোগকারী নিজে তাঁর ওয়ার্ড অফিসে কতটা উপস্থিত থাকেন, সেই তথ্যটাও প্রকাশ্যে আনা উচিত বলে তিনি দাবি করেন।
তৃণমূলের অন্দরমহলে মদন মিত্রের এই বক্তব্য ঘিরে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। মদন মিত্রের মতো একজন সিনিয়র নেতার এমন প্রকাশ্য ক্ষোভ প্রকাশ দলের অস্বস্তি বাড়াচ্ছে বলেই রাজনৈতিক মহলের অভিমত। এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের ইঙ্গিতবাহী বলেই মনে করা হচ্ছে।