“আগে চালচলন দেখি…”-নিজস্ব স্টাইলেই ‘ডোন্ট কেয়ার’ বার্তা অনুব্রত মন্ডলের

পুলিশ অফিসারকে কদর্য ভাষায় গালিগালাজ করার অডিও নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যতই তোলপাড়, সমালোচনা হোক, বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল রয়ে গেলেন নিজেরই চেনা স্টাইলে। বৃহস্পতিবার বোলপুরের এসডিপিও অফিসে হাজিরা দিতে গিয়েও তিনি সটান জানিয়ে দিলেন, “দু’দিন যাক। আগে চালচলন দেখি, তারপর বলব।” অর্থাৎ, মামলার গতিবিধি দেখে তিনি পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাবেন। যেন এই সব হইচই তাঁর কাছে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার!

বোলপুর থানার আইসি-কে ফোন করে কী বলা হয়েছিল, কবে বলা হয়েছিল, কেন বলা হয়েছিল—এসব এখন টিভি চ্যানেল আর সংবাদমাধ্যমের প্রধান আলোচনার বিষয়। কেস নম্বর, ধারা নম্বর, হুমকির অডিও, কিচকিচে চ্যানেল ডিসকাশন—সবই চলছে। কিন্তু যার নাম ঘিরে এত কিছু, সেই অনুব্রত মণ্ডল? তিনি নিজের ছন্দে আছেন। বরাবরের মতো।

হুমকির মামলায় পুলিশের ডাক? খুব একটা গুরুত্ব দেওয়ার মতো কিছু নয় বলেই যেন মনে করলেন তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা। গত দু’বার তলব এড়িয়ে, অবশেষে সাতদিন পর বৃহস্পতিবার একটু সময় বের করে হাজিরা দিয়েছিলেন বোলপুরের SDPO অফিসে। পাছে কেউ মনে করে, তিনি ভয় পেয়েছেন! তাই পৌঁছেই জানিয়ে দিলেন, “দু’দিন যাক। আগে চালচলন দেখি, তারপর বলব।” এর মানে যেন এমন, মামলা-মোকদ্দমা তো লেগেই থাকে, আগে দেখি নাটক কতদূর গড়ায়। এই মন্তব্যে অনুব্রত যেন একদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, আবার অন্যদিকে নিজের অদম্য মনোভাবও প্রকাশ করছেন।

‘মনে নেই’, বলেই ঝেড়ে ফেললেন বিতর্ক!
হুমকির ফোন? ওটা আবার কী? মনে নেই, বলেই স্রেফ ঝেড়ে ফেললেন। অথচ সেই ফোনেই অডিও রেকর্ডে তাঁরই গলা মেলানো যাচ্ছে। কিন্তু কী এসে যায় তাতে! ফোন কোথায়, কে জমা রাখল, কে নিল না—সেসব দায় অনুব্রত কেন নেবেন? ইনভেস্টিগেট করছে পুলিশ, তদন্ত করুক। অনুব্রত মণ্ডল তদন্ত নিয়ে ভাবেন না, তদন্তই বরং অনুব্রতের চিন্তাভাবনা নিয়ে ভাবে!

গাড়ির জানালায় যখন সাংবাদিকেরা মুখ বার করে প্রশ্ন ছুড়ছেন, “জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কি পুলিশ?” তখনও তাঁর চোখে মুখে সেই চেনা অনুব্রতীয় স্থিরতা। কোনো রকম উদ্বেগ বা অস্বস্তি দেখা যায়নি তাঁর চোখে-মুখে। এই অভিব্যক্তি বুঝিয়ে দেয়, তিনি এই ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে কতটা পরিচিত।

অনুব্রত মণ্ডল মানেই ‘কনট্রোভার্সির হট স্পট’
হুমকি দেওয়া নিয়ে শুধু নয়, অনুব্রতর নামে রয়েছে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ—যৌন হেনস্থা, সরকারি কর্তাকে কাজে বাধা দেওয়ার মতো ধারাও আছে। কিন্তু কেষ্টর হাবভাব দেখে তো মনে হচ্ছে, এইসব কিছুর মধ্যেও তাঁর লাঞ্চ মিস হবে না, ঘুম হবে সময় মতো, আর হালকা ঠাট্টায় পরিস্থিতি সামলে নেওয়া যাবে।

রাজনৈতিক মহল জানে, অনুব্রত মণ্ডল মানেই ‘কনট্রোভার্সির হট স্পট’। আর অনুব্রত নিজে জানেন, কীভাবে সেই কনট্রোভার্সিকে ঠান্ডা করতে হয়। একবার এক সাংবাদিককে তিনি বলেছিলেন, “সাংবাদিকতা করো, তা করো। আমার মতো করে করো না।” তাঁর এই ধরনের উক্তি বুঝিয়ে দেয়, বিতর্কের সঙ্গে তিনি কীভাবে সহাবস্থান করেন।

যাঁরা ভাবছেন অনুব্রত গলার স্বর নামিয়ে মুখ বুজে থাকবেন, তাঁরা হয়তো অনুব্রতকে ভালো করে চেনেন না। কেস হোক, কটাক্ষ হোক, কোর্ট হোক—সবকিছুর মধ্যেই তিনি আছেন তাঁর স্বাভাবিক, ‘ডোন্ট কেয়ার’ মুডে। সুতরাং, তদন্ত চলুক। ফোন খুঁজুক পুলিশ। ধারার ধাক্কায় টালমাটাল হোক রাজনীতি। অনুব্রত মণ্ডল আছেন নিজের মতোই—”দু’দিন যাক, আগে চালচলন দেখি!” তাঁর এই মনোভাবই বলে দিচ্ছে, তিনি এই রাজনৈতিক ও আইনি চাপকে বিশেষ পাত্তা দিচ্ছেন না।