৩৩ হাজারের স্টেডিয়ামে ২ লক্ষ মানুষের ভিড়! কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল বেঙ্গালুরুতে?

১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) দলের আইপিএল ট্রফি জয়। প্রিয় তারকাদের কাছ থেকে দেখার এবং বিনামূল্যে বিজয়োল্লাসে শামিল হওয়ার হাতছানি। এই বিপুল আবেগের বিস্ফোরণই বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে জন্ম দিল এক মর্মান্তিক পদপিষ্ট ঘটনার। কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু এবং বহু মানুষের আহত হওয়ার পর প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়? নেপথ্যে প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে, তা পুলিশও অস্বীকার করছে না, তবে ঘুরিয়ে আবেগে ভেসে যাওয়া সমর্থকদেরও দোষী ঠাওরাচ্ছে রাজ্য প্রশাসন।

বুধবার কোহলিদের সেলিব্রেশন চাক্ষুষ করতে সকাল থেকেই স্টেডিয়ামের বাইরে জনস্রোত শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তায় বাড়তে থাকে যানজট। কর্নাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামের ভিতরে প্রবেশের জন্য আলাদা পাস দিলেও, লক্ষ লক্ষ মানুষ অনুষ্ঠান দেখতে চলে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রয়োজনের তুলনায় পুলিশকর্মীর সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম, মাত্র ৫ হাজার পুলিশকর্মী এই বিশাল ভিড় সামাল দিতে নাজেহাল হয়ে পড়েন।

স্টেডিয়ামের গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে অসংখ্য মানুষ দ্রুত ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে সমর্থকরা প্রাণে বাঁচতে একে অপরের উপর দিয়ে পালাতে যান। আর তখনই ঘটে পদপিষ্টের ঘটনা।

সরকারের দাবি, বিনামূল্যে স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দেওয়াটাই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা মাত্র ৩৩ হাজার, কিন্তু সেখানে ২-৩ লক্ষের বেশি মানুষ প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেন, “এত মানুষ চলে আসবেন, আমরা ভাবতে পারিনি। স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৩৩ হাজার। সেখানে দু-তিন লক্ষ মানুষ ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। স্টেডিয়ামের দরজাটাও ছোট। ভিড়ের ঠেলায় তা ভেঙে যায়। এই জমায়েত কেউ আশা করেননি।”

কর্নাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার ঘটনার দায় স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, “পরিস্থিতি সামলানোর জন্য ৫০০০ নিরাপত্তারক্ষী ছিল। কিন্তু আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।” তাঁর সাফাই, “বহু মানুষের ভিড় হয়েছে। সকলেই খুব আবেগপ্রবণ। কমবয়সি ছেলে-মেয়েদের উপর তো আর লাঠি চালানো যায় না।”

সরকার যাই বলুক, প্রত্যক্ষদর্শীরা পুরোপুরি অব্যবস্থাকেই দায়ী করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। অ্যাম্বুল্যান্সের অভাব ছিল এবং ন্যূনতম ব্যবস্থাপনার ছিটেফোঁটাও ছিল না। পর্যাপ্ত পুলিশ না থাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। আবার আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার মতো অ্যাম্বুল্যান্সও ছিল না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশকর্মীরা আহতদের কোলে করে নিয়ে ছুটছেন। আবার কাউকে কাউকে ওই ভিড়ের মধ্যেই সিপিআর দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত গাফিলতির জায়গাটা স্পষ্ট। এই ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেটের পর্যবেক্ষণে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।