“জায়গা ছিল ৩৫ হাজারের, এসেছিল ২-৩ লাখ”-পদপিষ্ট কান্ড নিয়ে সাফাই কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীর

আইপিএল-এর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) শিরোপা জিতেছে, আর এই ঐতিহাসিক জয়ে বেঙ্গালুরু শহর যখন আনন্দে উদ্বেল, তখনই নেমে এলো শোকের কালো ছায়া। বুধ সন্ধ্যায় আনন্দ উদযাপনের অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার কারণে পদপিষ্ট হয়ে বেশ কয়েকজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে ‘অপ্রত্যাশিত ট্র্যাজেডি’ বলে উল্লেখ করেছেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। তাঁর দাবি, এত বিশাল ভিড় হবে বলে সরকার আশা করেনি।
কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছেন, বুধ সন্ধ্যায় চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে ২ লক্ষেরও বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। এটি তাঁদের ধারণার বাইরে ছিল।
তিনি বলেন, “এত মানুষ জয় উদযাপনে উপস্থিত হবেন আমরা আশা করিনি। স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৩৫,০০০ হলেও দুই থেকে তিন লক্ষ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আমরা ভেবেছিলাম অনুষ্ঠানস্থলের ধারণক্ষমতার থেকে একটু বেশি ভিড় হবে। প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময়ও ছিল না।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী বোঝাতে চেয়েছেন যে, অপ্রত্যাশিত ভিড়ই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সিদ্দারামাইয়া লিখেছেন, “চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের কাছে আরসিবি-র জয় উদযাপনের সময়ে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। জয়ের আনন্দকে মুছে দিয়েছে এই দুঃখের ঘটনা।” তিনি শোকাহত পরিবারগুলির প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
সিদ্দারামাইয়া আরও জানিয়েছেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে, “ভিকট্রি প্যারেড” হবে না বলে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তিনি বলেন, “অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কাতেই তাদের ভিকট্রি প্যারেড করতে দেওয়া হয়নি।” এর পরেও স্টেডিয়ামের কাছে অস্বাভাবিক ভিড় জমে গিয়েছিল, যার জেরেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেছেন। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে লিখেছেন, “উত্তেজনা, উদযাপন বা জনতার উৎসাহের থেকে সর্বদা নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য আমি সকলকে অনুরোধ করছি।”
বুধবার সন্ধ্যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া নিজে বাউরিং এবং বৈদেহী হাসপাতালে গিয়ে আহতদের এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। একই সাথে নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী।
এই ঘটনা আবারও আমাদের মনে করিয়ে দিল, উৎসবের উন্মাদনা যেন কখনোই নিরাপত্তার ঊর্ধ্বে না চলে যায়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।