সহকর্মীর বউয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক! ধামাচাপা দিতেই গৌতমকে ‘খুন’ দম্পতির?

ময়নাগুড়ির পদমতি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্রক্ষ্মপুরের পাহাড়পুরে উঠোনের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হওয়া যুবকের লাশের পরিচয় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। নিহত যুবক গৌতম রায় (৩০) পেশায় কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে জোড়া তত্ত্ব উঠে এসেছে – পরকীয়া এবং ধারদেনা। ঘটনায় অভিযুক্ত দম্পতি পরিমল রায় (৩৪) ও সঙ্গীতা রায় (২৯) এখনও বেপাত্তা, এবং প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে তারা অসমে পালিয়েছে। পুলিশ এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে।

বুধবার পাহাড়পুর এলাকায় একটি মোটরসাইকেল বাঁশঝাড়ে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে আশপাশের বাড়িতে খোঁজখবর নিতে গেলে আরও এক রহস্যজনক ঘটনা সামনে আসে। পরিমল রায়ের মা নামে এক বৃদ্ধা পুলিশকে জানান, মঙ্গলবার রাতে তাঁর বড় ছেলে পরিমল রায় তাঁকে বলেছিল যে, সে কাউকে খুন করে পুঁতে রেখেছে। এরপর এদিন সকালে নিজের সন্তানদের বাড়িতে রেখে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় পরিমল এবং তার স্ত্রী সঙ্গীতা রায়। বৃদ্ধার কথার সূত্র ধরে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে পরিমলের বাড়ির উঠোন খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে যুবকের দেহ। পরে জানা যায়, নিহত যুবক গৌতম রায়।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, নিহত গৌতম রায় এবং অভিযুক্ত পরিমল রায় দুজনেই অসমে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। সেখানেই তাদের পরিচয় হয়। ঘটনার পর থেকেই দুটি সম্ভাব্য কারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে:

পরকীয়া: স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্ত পরিমলের স্ত্রী সঙ্গীতার সঙ্গে গৌতমের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল এবং তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও ছিল। পরে সঙ্গীতা এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল, যা নিয়ে তাদের মধ্যে বিবাদ হয়। অভিযোগ, এর ফলেই পরিমল ও সঙ্গীতা দুজনে মিলে গৌতমকে খুন করে।

ধারদেনা: অন্য একটি সূত্রে খবর, সহকর্মী গৌতমের কাছ থেকে পরিমল মোটা টাকা ধার নিয়েছিল। সেই টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে গোলমাল বাঁধে। এই বিবাদের জেরে পরিমল গৌতমকে খুন করে উঠোনে পুঁতে পালিয়ে যায়।

অভিযুক্ত দম্পতি পলাতক
ঘটনার পর থেকেই পরিমল ও সঙ্গীতা পলাতক। যেহেতু পরিমলের স্ত্রী সঙ্গীতার বাপের বাড়ি অসমে, তাই পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে তারা অসমে পালিয়েছে। তাদের খোঁজে রাজ্য পুলিশ অসমেও তল্লাশি চালাচ্ছে।

পুলিশ এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। এই ঘটনা ময়নাগুড়ি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।