OMG! খাপ পঞ্চায়েতের সালিশি সভার নিদান, মহিলার গলা কেটে ফেলে দেওয়া হলো জঙ্গলে

সভ্য সমাজে যখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়, তখনও দেশের কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে ‘খাপ পঞ্চায়েত’-এর নামে ঘটে চলেছে মধ্যযুগীয় বর্বরতা। ঝাড়খণ্ডের সিমদেগা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় এক মহিলাকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাঁর গলা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই বীভৎস ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মহিলা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আহত ওই মহিলার নাম মীরা তিরকে, যাঁর বাড়ি ওডিশা রাজ্যে। অভিযোগ উঠেছে যে, মীরা বাগি নামের এক ব্যক্তির ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে বসবাস করছিলেন। তাঁদের এই সম্পর্ক নিয়ে পরিবারের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছিল এবং এ নিয়ে পারিবারিক বিবাদও চলছিল।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, এই ‘অবৈধ’ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার গ্রামে একটি খাপ পঞ্চায়েতের বৈঠক বসে। অভিযোগ, এই বৈঠকেই মীরাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এরপরেই খাপ পঞ্চায়েতের ‘তুঘলকি’ এবং ‘তালিবানি’ ফরমানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা কুপিয়ে তাঁকে মৃত ভেবে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

সিমদেগা এলাকার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। তাঁদের প্রাথমিক অনুমান, গ্রামীণ এই পঞ্চায়েতের বর্বর সিদ্ধান্তের কারণেই এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।

সিমদেগার পুলিশ সুপার মহম্মদ আরশি এই ঘটনাকে ‘তুঘলকি ফরমানে’র ফল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের প্রথম কাজ ওই মহিলার উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য আমরা একটি টিম গঠন করেছি। ওই দলের সদস্যরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।”

অন্যদিকে, সিমদেগার ডেপুটি পুলিশ সুপার রণভীর সিং জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর থেকে ওই মহিলার স্বামী বাগি পলাতক। তাঁকেও দ্রুত গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।

ফের প্রশ্নচিহ্নের মুখে খাপ পঞ্চায়েত
এই ঘটনা আবারও খাপ পঞ্চায়েতের নামে প্রচলিত অমানবিক ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডকে সামনে নিয়ে এসেছে। আধুনিক যুগেও কীভাবে একদল মানুষ নিজেদের ‘বিচারক’ সেজে এমন পাশবিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। মীরা তিরকের সুস্থতা কামনা করছেন সকলে, এবং দ্রুত ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের বিচার হোক, এটাই এখন সমাজের দাবি।