মুর্শিদাবাদ সীমান্তে উত্তেজনা! বিএসএফ জওয়ানকে অপহরণ বাংলাদেশিদের, গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ

দিনকয়েক আগেই ভুল করে সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়া এক বিএসএফ জওয়ানকে পাকিস্তানি সেনা আটক করে রেখেছিল, যিনি অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। এবার এক ভিন্ন ঘটনায়, অবৈধ অনুপ্রবেশে বাধা দেওয়ায় এক বিএসএফ জওয়ানকে গাছে বেঁধে মারধর ও অপহরণ করার অভিযোগ উঠল বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা মুর্শিদাবাদের সীমান্ত এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দীর্ঘ বৈঠকের পর ওই জওয়ানকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের সুতি থানার অন্তর্গত বিএসএফের ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের নুরপুর এলাকার। বিএসএফ সূত্রে খবর, সীমান্তের কাছে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২০-২৫ জন যুবক গবাদি পশু নিয়ে ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ান তাদের বাধা দিলে, অনুপ্রবেশকারীরা তাকে অপহরণ করে বাংলাদেশে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। ওপার বাংলার চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় একটি গাছে বেঁধে ওই বিএসএফ জওয়ানকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বিএসএফ জওয়ানকে একটি গাছে বেঁধে একদল লোক অশ্লীল ভাষায় কথা বলছে এবং হুমকি দিচ্ছে। যদিও ইটিভি ভারত এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি।

তৎপর বিএসএফ, দীর্ঘ বৈঠকের পর মুক্তি
এই ঘটনা সামনে আসতেই সীমান্ত রক্ষী বাহিনী দ্রুত তৎপর হয়। বিএসএফ জওয়ানকে ফিরিয়ে আনতে ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-র সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিজিবি ও বিএসএফের কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর অপহৃত বিএসএফ জওয়ানকে মুক্তি দেওয়া হয়। বিএসএফ তাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে এনেছে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ: “কাঁটাতার থাকলে সমস্যা কমত”
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, সীমান্ত উন্মুক্ত থাকার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। নুরপুরের বাসিন্দা হাফিজ শেখ বলেন, “বাংলাদেশিরা এপারে এসে আমাদের ফসল নষ্ট করে দিয়ে যায়। সীমান্তে কাঁটাতার থাকলে সবদিক থেকেই সমস্যা কমত। বিএসএফের উচিত অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।”

জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার এসপি অমিতকুমার সাউ এই বিষয়ে বলেন, “সুতি থানা এলাকার সীমান্তে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। বিএসএফের আধিকারিকরা বিষয়টি দেখছেন।”

এই ঘটনা আবারও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো বিষয়গুলি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।