আমেরিকায় ১২টি দেশের নাগরিকের ‘No Entry’, হঠাত্ নির্দেশিকা জারি করলেন ট্রাম্প

এক দশকেরও বেশি সময় পর মার্কিন রাজনীতির মঞ্চে আবারও স্বমহিমায় ফিরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তাঁর প্রত্যাবর্তনেই যেন ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন নীতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই তিনি ১২টি দেশের নাগরিকদের জন্য আমেরিকার দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, আরও সাতটি দেশের নাগরিকদের প্রবেশে আরোপ করা হয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। সোমবার থেকে কার্যকর হতে চলা এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ধ্বজাধারী ট্রাম্প আবারও বুঝিয়ে দিলেন, দেশের নিরাপত্তা তাঁর কাছে অগ্রগণ্য।
‘নিরাপত্তা বনাম স্বাধীনতা’: বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তি
বুধবার রাতে ট্রাম্প এক ডজন দেশের নাগরিকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এই তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান, মায়ানমার, চাদ, কঙ্গো, নিরক্ষীয় গিনি, এরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান এবং ইয়েমেন। এর পাশাপাশি বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান এবং ভেনিজুয়েলা থেকে আগত ব্যক্তিদের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে সোমবার দুপুর ১২টা থেকে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় স্পষ্ট বলেছেন, “আমাকে অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এর জনগণের জাতীয় নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করতে হবে।” তিনি ২০ জানুয়ারি একটি আদেশপত্র জারি করেছিলেন, যেখানে রাজ্য ও স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এবং জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালককে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি “শত্রুতাপূর্ণ মনোভাব” সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে আসা লোকেরা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে কিনা তা খুঁজে বের করতে বলা হয়েছিল। এই প্রতিবেদনের পরই ১২টি দেশের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং ৭টি দেশের উপর কঠোর নিয়ম আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘ট্রাম্প ট্র্যাভেল ব্যান’-এর পুনরুত্থান: কেন এই কঠোরতা?
ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, “আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা এবং আমার নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমাকে এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।” তিনি বলেন যে, “আমরা আবার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করব, যাকে কেউ কেউ ‘ট্রাম্প ট্র্যাভেল ব্যান’ বলে অভিহিত করে, যাতে উগ্র ইসলামী সন্ত্রাসীদের দেশে প্রবেশ রোধ করা যায়। এটি এমন একটি পদক্ষেপ যা সুপ্রিম কোর্টও সমর্থন করেছে।”
স্মর্তব্য, তাঁর প্রথম মেয়াদে, ট্রাম্প ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে একটি আদেশ জারি করেন যা সাতটি মুসলিম প্রধান দেশ – ইরাক, সিরিয়া, ইরান, সুদান, লিবিয়া, সোমালিয়া এবং ইয়েমেনের নাগরিকদের আমেরিকা ভ্রমণ নিষিদ্ধ করে। সেই সময়েও এই নিষেধাজ্ঞার ফলে অসংখ্য ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং পরিবার পরিজনের সঙ্গে দেখা করতে আসা ব্যক্তিরা আমেরিকায় প্রবেশ করতে পারেননি অথবা বিমানবন্দরেই আটকে পড়েছিলেন।
এবারও সেই একই চিত্র ফিরে আসার আশঙ্কায় অভিবাসী অধিকার কর্মী এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তাদের মতে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কেবল বিভেদই বাড়ায় না, বরং মানবিক সংকটও তৈরি করে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের সমর্থকরা এই পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে মনে করছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা মার্কিন রাজনীতিতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।