ইন্টারনেট না থাকলেও এআই ব্যবহার করতে পারবেন, শিখেনিন কী উপায়?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছে। রেসিপি খোঁজা থেকে শুরু করে জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি, কিংবা পেশাগত রিপোর্ট ও প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত করা—সবকিছুতেই এআই এখন অপরিহার্য সঙ্গী। তবে, এআই ব্যবহারের একটি প্রধান সীমাবদ্ধতা ছিল ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজনীয়তা। ইন্টারনেট না থাকলে বেশিরভাগ এআই চ্যাটবট বা পরিষেবা ব্যবহার করা যেত না। কিন্তু, এবার সেই বাধা দূর করতে গুগল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে।
গুগল সম্প্রতি একটি নতুন অ্যাপ লঞ্চ করেছে, যার নাম এআই এজ গ্যালারি (AI Edge Gallery)। এই অ্যাপটি স্মার্টফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এর শক্তিশালী এআই মডেলটি অফলাইনেও ব্যবহার করা যাবে।
গোপনীয়তা ও দ্রুত পারফরম্যান্সের প্রতিশ্রুতি:
এই অফলাইন সক্ষমতা কেবল সুবিধার জন্যই নয়, এটি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা (Privacy) এবং দ্রুত পারফরম্যান্সের (Fast Performance) ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। যেহেতু সমস্ত প্রক্রিয়া ডিভাইসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে, তাই ক্লাউড সার্ভার থেকে ডেটা টানার কোনো প্রয়োজন নেই। এর ফলে ডেটা সুরক্ষার ঝুঁকি বহুলাংশে কমে যাবে এবং সার্ভারের সাড়া পাওয়ার জন্য অপেক্ষারও প্রয়োজন হবে না, যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আরও মসৃণ করবে।
‘জেম্মা ৩ ১বি’: ছোট প্যাকে বড় ধামাকা
এই নতুন এআই অ্যাপটির মডেলের নাম হলো জেম্মা ৩ ১বি (Gemma 3 1B)। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর ছোট আকার—মাত্র ৫২৯ এমবি (MB)। এই ক্ষুদ্র আকারের হওয়া সত্ত্বেও অ্যাপটি অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি প্রতি সেকেন্ডে ২৫৮৫ টোকেন (Tokens) প্রসেস করতে সক্ষম, যা অফলাইন ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
এই ছোট সাইজের কারণেই ‘জেম্মা ৩ ১বি’ কাস্টম কন্টেন্ট তৈরি, ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ এবং স্মার্ট রিপ্লাই-এর মতো কাজগুলি অনায়াসে করতে পারে। এটি স্মার্টফোনে এআই-কে আরও সহজলভ্য এবং কার্যকরী করে তুলবে, যা প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দ্য ইকোনমিক টাইমস সূত্রে জানা গেছে, গুগলের এই নতুন উদ্যোগ এআই প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে নিয়ে আসবে এবং ইন্টারনেট সংযোগের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা উপভোগ করার সুযোগ করে দেবে। এর ফলে ব্যক্তিগত ব্যবহার থেকে শুরু করে পেশাদার কাজেও এআই-এর ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে।