“বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি”-অনুব্রতর পাশে দাঁড়িয়ে বিপাকে ছাত্র নেতা, বাবা বললেন ‘আমি লজ্জিত’

বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারের সঙ্গে কুরুচিকর ভাষায় কথোপকথনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাসপেন্ডেড সভাপতি বিক্রমজিৎ সাউয়ের। অনুব্রত হাজিরা না দিলেও, আজ সকালে সিউড়ি থানায় নির্ধারিত সময়ের আগেই হাজিরা দিলেন ছাত্রনেতা বিক্রমজিৎ সাউ। সিউড়ি থানা থেকে যদিও বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার সকাল দশটায় হাজিরার জন্য ডাকা হয়েছিল বিক্রমজিৎকে। তবে, তিনি এদিন সকাল ছ’টা থেকে সাড়ে ছ’টার মধ্যেই থানায় উপস্থিত হন। প্রায় এক ঘণ্টা সিউড়ি থানায় ছিলেন তিনি। জানা গেছে, অনুব্রতর পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে তিনি যে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন, সেই সংক্রান্ত বিষয়েই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
বোলপুর থানার আইসির সঙ্গে কথোপকথনের অডিও প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজ্যের শাসক দল, তৃণমূল কংগ্রেস, চরম অস্বস্তিতে পড়ে। সেই সময়েই বীরভূম জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিক্রমজিৎ সাউ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন, যা বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালে।
তাঁর পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “লিটন হালদার নাম নিয়ে বলছি, তোমার দম থাকলে, অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে, বীরভূম জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নামে FIR করে দেখাও। তুমি নিজে জানো, তুমি একজন দুর্নীতিপরায়ণ। আমার কাছে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ আছে। তুমি যদি ভাবো ডালে ডালে চলবে, তোমাদের শিরায় উপশিরায় আমরা চলি।”
ছাত্রনেতার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিক্রমজিতের বাবা তথা সিউড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান বিদ্যাসাগর সাউ ছেলের আচরণের জন্য প্রকাশ্যেই নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “গত ৩১ মে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। ছেলেকে ভর্ৎসনা করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি। ও যে ভাষা প্রয়োগ করেছে, তাতে আমি লজ্জিত।”
এই মন্তব্যের জেরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠলে, বীরভূমের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিক্রমজিৎ সাউকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করে দল। এরপরেই বুধবার তাঁকে পুলিশি নোটিস ধরানো হয় এবং ওই দিনই থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়। আজকের হাজিরা এই ঘটনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। গোটা ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।