গোটা বিশ্বের নজর যখন IPL-এর ফাইনালে, তখনও রীতিমতো আতঙ্কে ভুগছে পাকিস্তান! কিন্তু কেন?

গত ৭ মে ‘মক ড্রিল’-এর আড়ালে ভারতীয় বায়ু ও স্থলসেনার পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আতঙ্ক এখনও তাড়া করে ফিরছে পাকিস্তানকে। এর জেরে ভারতীয় বায়ুসেনার সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণের ভয়ে রীতিমতো ঘুম উড়েছে ইসলামাবাদের। মঙ্গলবার রাতে, যখন গোটা বিশ্বের চোখ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে আইপিএল ফাইনালের দিকে নিবদ্ধ ছিল, ঠিক তখনই ভারত-পাক সীমান্তে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলোর ব্যাপক তৎপরতা ধরা পড়েছে ভারতীয় রাডারে।
ভারতীয় রাডার সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত থেকেই পাকিস্তানের JF 17, F16, IL -78 যুদ্ধবিমান এবং নজরদারি ড্রোন P24-এর অস্বাভাবিক গতিবিধি ধরা পড়েছে। পাকিস্তান বায়ুসেনার এই বাড়তি তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা মনে করছে ভারত হয়তো কোনো বড় ইভেন্টের আড়ালে কৌশলগতভাবে আবারও হামলা চালাতে পারে। এই ভয়েই আইপিএল ফাইনালের রাতেও পাকিস্তান বায়ুসেনা চুপ করে বসে থাকতে পারেনি।
পাকিস্তানের স্কারগোধা, নূর খান-সহ মোট চারটি বায়ুসেনা ঘাঁটির আকাশে মাঝরাত পর্যন্ত অনবরত চক্কর দিতে দেখা গেছে যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন। এই অতি সক্রিয়তা ভারতীয় রাডারে ধরা পড়তেই ভারতীয় বায়ুসেনা তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় করে। নর্দান কমান্ডের বেশ কয়েকটি বায়ুসেনা ঘাঁটির যুদ্ধবিমানকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। এমনকি, S400-এর মতো ভারতের অন্যতম শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মেরুদণ্ডও তৈরি রাখা হয়েছিল। তবে ভারতীয় বায়ুসেনা সূত্রে খবর, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলো নিজেদের আকাশসীমার বাইরে আসেনি। ভোর সাড়ে তিনটে পর্যন্ত এই যুদ্ধবিমানগুলো পাকিস্তানের আকাশেই চক্কর খেয়েছে।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও শেষ হয়নি। এই বার্তা পাকিস্তানের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেছে এবং তাদের মধ্যে ভারতীয় প্রত্যাঘাতের ভয় আরও বাড়িয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি যে এখনও উত্তপ্ত, তা পাকিস্তানের বায়ুসেনার এই অতি সক্রিয়তা এবং ভারতীয় বায়ুসেনার পাক সীমান্ত অংশে মহড়াতেই প্রমাণ হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শুধু ভারতের কাছে নয়, পাকিস্তানের ওপর চাপ তৈরি করেছে মার্কিন সেনাও। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ইমতিয়াজ গুলের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন সেনারা পাকিস্তানের নূর খান এয়ারবেস দখল করে নিয়েছে এবং সেখানে পাক সেনা আধিকারিকদেরও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এই খবর যদি সত্যি হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।