‘অপারেশন সিঁদুরে’-কতগুলি বিমান নষ্ট পাকিস্তানের? এবার সামনে এলো আরও তথ্য

ভারতের প্রত্যাঘাতে পাকিস্তানের কতটা ক্ষতি হয়েছিল, তা ইসলামাবাদ কখনও সরাসরি স্বীকার করেনি। স্যাটেলাইটের ছবি সামনে না আসা পর্যন্ত তারা এয়ারবেসের ক্ষতির বহর এড়িয়ে গিয়েছে। বিমান বা ড্রোনের ক্ষতির কথাও পাকিস্তানের তরফে কখনও বলা হয়নি। কিন্তু এবার সামনে এল সেই চাঞ্চল্যকর তথ্য। পাকিস্তানের একটি অভ্যন্তরীণ ডসিয়ার সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ফলে তাদের বিপুল ক্ষতির কথা স্বীকার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ভারতের এই সামরিক অভিযানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র খুইয়েছিল পাকিস্তান।
পাকিস্তানের ক্ষতির খতিয়ান: ৬ যুদ্ধবিমান, ১০ ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল!
প্রকাশ্যে আসা পাকিস্তানের এই ডসিয়ারে স্বীকার করা হয়েছে যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতের প্রত্যাঘাতে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ডসিয়ার অনুযায়ী,
পাকিস্তান যা হারিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:
৬টি যুদ্ধবিমান
২টি অত্যন্ত দামি বিমান (সম্ভবত আর্লি ওয়ার্নিং বা কন্ট্রোল এয়ারক্র্যাফট)
১০টি আনম্যানড কমব্যাট এরিয়াল ভেহিক্যাল (UCAV) বা অত্যাধুনিক ড্রোন
একটি C-130 ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্র্যাফট
একাধিক ক্রুজ মিসাইল
এএনআই-এর প্রতিবেদনে একটি সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা হিসেব করার সময়ই পাকিস্তানের এই ডসিয়ার থেকে তথ্যগুলি সামনে এসেছে। ডসিয়ারটিতে আরও স্বীকার করা হয়েছে যে, ভারতের প্রত্যাঘাত তাদের আরও নানা সামরিক অবস্থানে আঘাত হেনেছিল।
ভারতীয় বায়ুসেনার পূর্বের দাবি ও নতুন তথ্যের সংযুক্তি
রিপোর্টের ভিত্তিতে আগে থেকেই মনে করা হচ্ছিল, পাকিস্তানের ৬টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। অত্যন্ত দামি একটি বিমানও ধ্বংস হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছিল। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতের মিসাইল হানায় পাকিস্তানের একটি আর্লি ওয়ার্নিং বা কন্ট্রোল এয়ারক্র্যাফট ধ্বংস হয়েছিল বলে আগেই জানিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। চার দিনের সংঘর্ষে ভারতের বায়ুসেনা পাকিস্তানের ভোলারি বিমানবন্দরেও এয়ার-টু-সারফেস মিসাইল ছুড়েছিল। সেই সময়েই পাকিস্তানের একটি আর্লি ওয়ার্নিং কন্ট্রোলের কাজ করা বিমান ধ্বংস হয়েছিল। হ্যাঙ্গারে থাকা একাধিক যুদ্ধবিমানও ধ্বংস হয়েছিল, তবে তার খতিয়ান তখন ভারত বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেনি।
ভারতের তরফে জানানো হয়েছিল, পাকিস্তানের এয়ারবেসে বিমান থেকে ক্রুজ মিসাইল হামলা চালানো হয়েছিল। ভূমি থেকে ভূমি কোনও ব্রহ্মোস মিসাইল ব্যবহার করা হয়নি। ভারতীয় প্রত্যাঘাতে একাধিক চীনা ড্রোনও নষ্ট হয়েছে বলে তখন জানানো হয়েছিল।
এই নতুন ডসিয়ার পাকিস্তানের পূর্বের অস্বীকারের চিত্রকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছে এবং ভারতের সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রভাবকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।