“শেখ মুজিবুর ইচ্ছে করে পাক সেনার হাতে বন্দি হয়েছিলেন”-দাবি বাংলাদেশের ছাত্রনেতার

বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক মহম্মদ সারজিস আলম ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। বুধবার সকালে একটি ফেসবুক পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানি সেনার হাতে বন্দি’ হয়েছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি সরাসরি মাঠে উপস্থিত ছিলেন না। সারজিসের এই মন্তব্য দ্রুত শোরগোল ফেলে দেয় এবং পরে তিনি পোস্টটি ডিলিট করে দেন।
আলমের এই পোস্টটি বিতর্কের জন্ম দেয় কারণ এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিষ্ঠিত ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তাঁর দাবি, “মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে বন্দী হয়ে বিজয়ের পর পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের জেলে বন্দি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি সরাসরি মাঠে ছিলেন না। তাজউদ্দিন আহমদ মাঠে থেকে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন।”
পোস্ট ডিলিট ও গণমাধ্যমের প্রতি ক্ষোভ
সারজিসের এই মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড় ওঠে। অনেকেই তাঁর দাবির পক্ষে-বিপক্ষে নিজেদের মতামত জানাতে শুরু করেন। বিতর্কের মুখে সারজিস দ্রুত নিজের পোস্টটি ডিলিট করেন এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে নতুন একটি পোস্ট করেন।
নতুন পোস্টে তিনি লেখেন, “দেশের প্রথম সারির কিছু পত্রিকা ও মিডিয়া হাউজ শুধুমাত্র TRP আর ব্যাকডোর নেগোসিয়েশনের কারণে দিনে দিনে প্রোপাগান্ডা সেলে পরিণত হচ্ছে।” ওই পোস্টের কমেন্টে সারজিস আরও লেখেন, “যে তথ্যের ভিত্তিতে আমি পূর্বের পোস্ট দিয়েছিলাম সেই তথ্য যেহেতু সঠিক নয় তাই আমি আমার পূর্বের লেখাটি সরিয়ে ফেললাম। ফ্যাক্ট চেক না করে শুধুমাত্র প্রথম সারির কিছু মিডিয়ার তথ্যের ভিত্তিতে লেখাটি লেখার জন্য দুঃখিত। আশা করছি পরবর্তীতে এই ধরনের পুনরাবৃত্তি হবে না।”
সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অতীতের অভিযোগ
উল্লেখ্য, গত বছর আগস্ট মাসেও ছাত্র বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান মুখ এবং এনসিপি নেতা সারজিস আলম দেশের সেনাবাহিনীকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। রাজনীতিবিদ এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বাসভবনে ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি এবং স্টুডেন্টস এগেইনস্ট ডিসক্রিমিনেশন (এসএডি) এর কিছু ছাত্র নেতাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সেনাবাহিনী। এই বিষয়ে সারজিস সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে প্রশ্ন করেন, “আওয়ামী লীগের গুণ্ডা এবং খুনিদের গ্রেফতারের জন্য গত ৯ মাসে সেনা কতগুলি অভিযান করেছে?”
সারজিসের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭২তম পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কাইয়ুম। তিনি বলেছিলেন, “আপাতত, আমাদের অবস্থান স্পষ্ট – যারা জনজীবনকে ব্যাহত করে, ভাঙচুরে জড়িত হয়, আগুন লাগায় বা বাড়িঘর ধ্বংস করে তাদের এই বার্তাটি বুঝতে হবে। তাদের আর এই ধরনের কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে না।”
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সারজিসের এই বিতর্কিত মন্তব্য এবং তার পরবর্তী ডিলিট করা পোস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনা দেশের ইতিহাস এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।