বাড়ির পাশেই রাস্তা? শহুরে কোলাহলকে বলুন ‘টাটা’, পাঁচটি অব্যর্থ টোটকায় ঘর হবে শব্দরোধী!

দ্রুতগতির এই শহুরে জীবনে গাড়ির হর্ন, নির্মাণকাজের শব্দ, আর বাইরের অবাঞ্ছিত কোলাহল ঘরের শান্ত পরিবেশটুকুও কেড়ে নিচ্ছে। সাউন্ডপ্রুফিংয়ের কথা ভাবলেও, তার আকাশছোঁয়া খরচ দেখে অনেকেই পিছিয়ে আসেন। কিন্তু চিন্তার কিছু নেই! সামান্য কিছু ঘরোয়া কৌশলেই বাইরের অবাঞ্ছিত আওয়াজ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। আপনার ঘরকে কিছুটা হলেও শব্দরোধী করে তোলার জন্য রইল এমনই পাঁচটি সহজ ও কার্যকর টোটকা।

১. ভারী পর্দার জাদু
ঘরের দরজা-জানলায় মোটা ও ভারী পর্দা ব্যবহার করা শব্দ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম সহজ উপায়। এই ধরনের পর্দা শুধু আলোই আটকায় না, বাইরে থেকে আসা শব্দও শোষণ করে নেয়। বিশেষত মখমল বা পুরু ক্যানভাস কাপড়ের পর্দা এক্ষেত্রে বেশ কার্যকরী। সম্ভব হলে ডবল লেয়ারের পর্দা ব্যবহার করতে পারেন, তাতে আরও ভালো ফল মিলবে।

২. আসবাবপত্রের কৌশলগত বিন্যাস
আপনার ঘরের আসবাবপত্রও শব্দ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেওয়াল ঘেঁষে বড় বুকশেলফ বা আলমারি রাখলে তা বাইরের শব্দ প্রতিরোধ করতে পারে। একইভাবে, নরম সোফা, কার্পেট, রাগস ইত্যাদিও ঘরের মধ্যে শব্দের প্রতিধ্বনি কমাতে সাহায্য করে। খেয়াল রাখবেন, ফাঁকা দেওয়ালের তুলনায় আসবাবপত্রে ভরা ঘরে বাইরের আওয়াজ কম প্রবেশ করে।

৩. ফাঁক-ফোকর বন্ধ করুন
অনেক সময় দরজা বা জানলার কোনায় থাকা ছোট ছোট ফাঁক দিয়েও বাইরের শব্দ ঘরে প্রবেশ করে। এই ধরনের ফাঁক-ফোকর খুঁজে বের করে তা বন্ধ করার ব্যবস্থা নিন। পুরনো কাপড়, স্পঞ্জ বা রাবার স্ট্রিপ ব্যবহার করে এই ছিদ্রগুলি সহজেই বন্ধ করা যায়। দরজার তলার ফাঁক দিয়ে শব্দ এলে সেখানে ‘ডোর সুইপ’ বা পাতলা কার্পেটের টুকরো ব্যবহার করতে পারেন, ঠিক যেমন এসি ব্যবহারের সময় ঘর সিল করা হয়।

৪. দেওয়াল সজ্জায় আনুন পরিবর্তন
ফাঁকা দেওয়াল শব্দ প্রতিফলিত করে ঘরের ভেতরের আওয়াজ বাড়িয়ে তোলে। যদি আর্থিক সঙ্গতি থাকে, তাহলে ওয়াল হ্যাংগিং, ফেব্রিক আর্ট বা অ্যাকোস্টিক ফোম প্যানেল ব্যবহার করতে পারেন। অ্যাকোস্টিক ফোম প্যানেল আজকাল অনলাইনেও সহজে পাওয়া যায়, যা শব্দ শোষণ করে ঘরকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।

৫. গাছপালার সবুজ প্রভাব
অবাক হচ্ছেন? কিন্তু এটা সত্যি যে ঘরের ভেতরে বা বারান্দায় গাছপালা রাখলে তা প্রাকৃতিক সাউন্ড ব্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে। বিশেষত ঘন পাতাযুক্ত গাছ বাইরের কোলাহল রোধ করে ঘরের পরিবেশ শান্ত রাখতে সাহায্য করে। আর ঘরের সৌন্দর্য তো বাড়বেই!