OMG! নিজের জন্য কেনা মদ খেয়ে ফেলল ছেলে, রেগে গিয়ে পিটিয়ে খুন করল বাবা

নিজের জন্য কিনে আনা মদ ছেলে খেয়ে ফেলায়, সেই রাগে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে। মৃতের নাম দিলীপ ধ্রুবে (৩৫)। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বাবাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হিরামন ধ্রুবে নামে ৬৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি নিজের জন্য মদ কিনে বাড়িতে রেখেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি মদ খেতে গিয়ে দেখেন বোতল খালি। বুঝতে পারেন, তাঁর ৩৫ বছর বয়সী ছেলে দিলীপ সেই মদ খেয়ে ফেলেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবা ও ছেলের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়, যা দ্রুত চরম আকার ধারণ করে। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হিরামন একটি চ্যালা কাঠ দিয়ে দিলীপের মাথায় আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন দিলীপ এবং তাঁর মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দিলীপের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় মর্গে পাঠায়। দিলীপের স্ত্রী রাজকুমারী দেবী তাঁর শ্বশুর হিরামন ধ্রুবের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত হিরামনকে গ্রেফতার করেছে।

মদ্যপান ঘিরে নিত্যদিনের অশান্তি, দুই শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

মৃত দিলীপের দুই সন্তান রয়েছে, যাদের বয়স যথাক্রমে ৩ ও ৫ বছর। এই ঘটনার পর তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিলীপ সেভাবে কোনো কাজ করতেন না এবং মাঝেমধ্যে কাজ করলেও সেই টাকা মদের পিছনে খরচ করে দিতেন। এ নিয়ে বাড়িতে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। সংসারের মূল খরচ চালাতেন বাবা হিরামন। তিনি ছেলেকে কাজ করতে বললেও দিলীপ তাতে কর্ণপাত করতেন না, যার জন্য তাঁদের মধ্যে নিত্যদিন ঝামেলা হতো। এমনকি দিলীপ তাঁর স্ত্রীকেও মারধর করতেন বলে অভিযোগ।

এলাকাবাসীর দাবি, বাবা ও ছেলের মধ্যে মদ্যপান ঘিরে প্রায়ই অশান্তি হতো, এবং কখনও কখনও তা চরমে পৌঁছাত। এই ধরনের ঝামেলা তাঁদের কাছে গা-সওয়া হয়ে গিয়েছিল, তাই সেদিনও তারা এতটা নজর করেননি। তবে, এই অশান্তির পরিণতি যে এমন মর্মান্তিক হবে, তা কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঠিক কোন পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তি ছেলেকে খুন করলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘটনা অমরাবতীতে শোকের ছায়া ফেলেছে এবং মদ্যপানের ভয়াবহ পরিণতি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।