“অশ্রাব্য গালিগালাজ, হাতাহাতি”-অনুব্রতকে গ্রেপ্তারির দাবিতে বিজেপি কর্মীদের মারামারি!

তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে রাজ্য রাজনীতি যখন সরগরম, ঠিক তখনই এক অদ্ভুত দৃশ্যের সাক্ষী হলো করুণাময়ী সংলগ্ন এলাকা। অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে নিজেদের মধ্যেই হাতাহাতি, অশ্রাব্য গালিগালাজে জড়িয়ে পড়লেন বিজেপি কর্মীরা। এই ঘটনা দেখে মুচকি হাসছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

গত কয়েকদিন ধরেই অনুব্রত মণ্ডল বিতর্কের কেন্দ্রে। বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে ফোন করে অশ্রাব্য গালিগালাজ এবং তাঁর মা ও স্ত্রীর নাম তুলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। পুলিশ ইতিমধ্যেই দু’বার অনুব্রতকে নোটিস পাঠালেও, তিনি দু’বারই হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। এর প্রতিবাদে এবং তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে মঙ্গলবার করুণাময়ীতে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেছিল বিজেপি।

বিধাননগরের চারটি মণ্ডলের বিজেপি কর্মীরা একত্রিত হয়েছিলেন করুণাময়ীতে। কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি মণ্ডলের সভাপতিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু গোল বাঁধল বিজেপি নেতা পীযূষ কানোরিয়াকে ঘিরে। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, পীযূষ কানোরিয়া সভাস্থলে এসেই হম্বিতম্বি শুরু করে দেন। তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা কর্মীদের মারধরও করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মারের চোটে বিজেপি কর্মী পার্থ করের কপাল ফুলে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, “এসেই বেদম মারতে শুরু করল। আমার কপালটা দেখুন। ফুলে গিয়েছে।”

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিধাননগর ৪ মণ্ডলের প্রেসিডেন্ট অতীশ দীপঙ্কর পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, “উনি তৃণমূলের দালাল। অনুব্রতর বিরুদ্ধে মিছিল করতে বাধা দিচ্ছিলেন। কর্মীরা বাধা দিতেই মারধর শুরু করেন।”

বিজেপির এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছবি দেখে তৃণমূল কংগ্রেস স্বভাবতই কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “দলটার যা অবস্থা সেটাই রাস্তায় প্রতিফলিত হয়েছে। এটাই ওদের ভবিতব্য।”

যেখানে শাসকদলের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে প্রতিবাদের কথা ছিল, সেখানে নিজেদের মধ্যেই এমন হাতাহাতির ঘটনা বিজেপির অস্বস্তি বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই ঘটনা কি বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও বেশি করে প্রকাশ্যে আনল? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।