প্রাথমিকের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন জটিলতা, এনআইওএস ডিএলএড উত্তীর্ণদের হাইকোর্টে মামলা

প্রাথমিকে ২০২২ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলিং (NIOS) থেকে ডিএলএড (D.El.Ed) পাস করা শতাধিক চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না পেরে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। তাদের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী। এই মামলার শুনানি আগামী ৫ জুন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আদালতের দ্বারস্থ NISO D.El.Ed উত্তীর্ণরা:

প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ গত ৩০ মে নথি যাচাইয়ের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যেখানে শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে যারা NIOS থেকে ডিএলএড সম্পন্ন করেছেন এবং সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেননি, তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। এই বঞ্চনার প্রতিবাদেই শতাধিক চাকরিপ্রার্থী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাদের মূল দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে সবাইকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। মামলাকারীদের যুক্তি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আরও ব্যাপক ছিল এবং সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল।

‘শুধু চাকরিহারাদের জন্য কেন ভাতা?’— গ্রুপ C, গ্রুপ D শিক্ষাকর্মীদের ভাতার সিদ্ধান্তও প্রশ্নের মুখে

এদিকে, গত ১৪ মে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক চাকরিহারা গ্রুপ C এবং গ্রুপ D শিক্ষাকর্মীদের জন্য ঘোষিত আর্থিক সাহায্য নিয়েও কলকাতা হাইকোর্টে চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। ‘ওয়েস্টবেঙ্গল লাইভলিহুড অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি ইন্টারিম স্কিম’ প্রকল্পের মাধ্যমে এই ভাতা বা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলাকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, “শুধু চাকরিহারাদের জন্য কেন রাজ্য সরকারের ভাতা?”

আন্দোলনকারী এবং অন্যান্য চাকরিহারা শিক্ষকদের অনেকেরই বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় যোগ্য-অযোগ্য গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। তাদের মতে, যদি দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরিপ্রাপ্তরাও এই ভাতা পান, তাহলে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া সব চাকরিপ্রার্থী কেন ভাতা পাবেন না? তাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে যারা দুর্নীতি করে অর্থের বিনিময়ে চাকরি পেয়েছিলেন, তারাও বাড়তি সুবিধা পাবেন। এই মামলার শুনানিও আগামী ৫ জুন হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতীক্ষায় রাজ্য:

প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীদের ভাতার এই দুটি মামলাই এখন আদালতের বিচারাধীন। আগামী ৫ জুন এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষ। আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের পথ।