নাগরিকের দুয়ারে সরকার, কিন্তু মালদহের এই বৃদ্ধার দুয়ার আজও ফাঁকা!

রাজ্য সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প যখন রাজ্যের আনাচে-কানাচে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে, তখন মালদহের ইংরেজবাজার ব্লকের কাজিগ্রাম অঞ্চলের বিলালপুরের গ্রামের ৫৫ বছর বয়সি বিধবা বিশাখা মণ্ডল আজও বঞ্চিত সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে। না আছে আধার কার্ড, না আছে রেশন কার্ড, সরকারি সমস্ত রকম সুবিধা থেকে বহু দূরে একাকী দিন কাটছে তার।

প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী বিকাশ মণ্ডলকে হারিয়েছেন বিশাখা। পরিবারহীন এই বৃদ্ধা এক জীর্ণ কুঁড়েঘরে দিনযাপন করছেন, যেখানে কখনও খাবার জোটে, আবার কখনও অনাহারেই কাটে দিন। তার ছোট্ট ঘরটিও বসবাসের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে, সাপ, কুকুর, বিড়ালের অবাধ আনাগোনা সেখানে। এই বিপজ্জনক অবস্থাতেই কোনোরকমে টিকে আছেন তিনি।

নিয়মিত ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির বসলেও ডাক পাননি বিশাখা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাড়ি থেকে বের হওয়াও তার জন্য কঠিন। প্রতিবেশীরা মাঝে মাঝে খোঁজ নিলেও দিনের বেশিরভাগ সময় তাকে একাই কাটাতে হয় অন্ধকারে।

তার এক আত্মীয় আক্ষেপ করে বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে একাই আছেন। আমরা যতটুকু পারি দেখাশোনা করি। কিন্তু ‘দুয়ারে সরকার’ এলেও সরকারি সুবিধা মেলে না। একাধিকবার আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি। সরকারি সাহায্য পেলে উনি খুব উপকৃত হবেন।”

স্থানীয় কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের মধুমন্তি মন্ডল কর্মকার জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব দ্রুত আমরা ওই বৃদ্ধার বাড়িতে যাব এবং সব রকম সরকারি সাহায্য পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।”

রাজ্য সরকার যখন বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর, তখন বিশাখা মণ্ডলের মতো অসংখ্য মানুষ আজও অন্ধকারে রয়েছেন। তাদের কাছে সরকারি সুবিধা কবে পৌঁছাবে, সে প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।