১০ টাকায় ছুটবে ৬০ কিমি রাস্তা! ব্যাটারিচালিত সাইকেল তৈরী করে তাক লাগলেন যুবক

আগামীকাল, ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস। সাইকেল কেবল একটি সহজলভ্য পরিবহন মাধ্যমই নয়, এটি শরীর ও মনকে সতেজ রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাইকেল চালানো রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং জয়েন্ট পেইন, বাত ও স্থূলতার মতো বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। এমন এক দিবসের প্রাক্কালে মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর থানার অন্তর্গত বিনোদিয়া গ্রামের এক যুবক তার অভিনব উদ্ভাবন দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন।
দীপঙ্করের ব্যাটারিচালিত সাইকেল:
বিনোদিয়া গ্রামের ইস্পাত মিস্ত্রি দীপঙ্কর হাজরা মাত্র ১৮ হাজার টাকা খরচ করে একটি ব্যাটারিচালিত সাইকেল তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করা এই যুবক এক মাসের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং নিজস্ব প্রচেষ্টায় স্টিল দিয়ে এই সাইকেলটি তৈরি করেছেন। বর্তমানে পেট্রোপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে, ব্যাটারিচালিত এই সাইকেলটি অত্যন্ত কম খরচেই চলবে, যা প্রশংসার দাবিদার।
সাইকেলের বৈশিষ্ট্য:
দীপঙ্করের তৈরি এই সাইকেলে স্টিলের কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। এতে একটি লিথিয়াম ব্যাটারি এবং ২৪ ভোল্ট ১২৪ পাওয়ারের একটি মোটর লাগানো হয়েছে। এই সাইকেলটি একবার ফুল চার্জ দিতে মাত্র ১০ টাকা খরচ হয়, যা দিয়ে এটি ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। সাইকেলটির গতি ঘণ্টায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।
গ্রামবাসীদের প্রশংসা ও দীপঙ্করের স্বপ্ন:
ব্যাটারিচালিত এই সাইকেল বানানোর পর দীপঙ্কর তার গ্রামবাসীদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। পরিবারের সদস্যরাও তার এই কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত খুশি। দীপঙ্কর হাজরা আগামীতে আরও উন্নতমানের সাইকেল বানানোর পরিকল্পনা করছেন। তিনি আশা করছেন, সরকারি সাহায্য পেলে তিনি আরও ভালো সাইকেল তৈরি করতে পারবেন, যা পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী উভয়ই হবে।
বিশ্ব সাইকেল দিবসের আগে দীপঙ্করের এই উদ্ভাবন ভরতপুরে একটি নজির সৃষ্টি করেছে। এটি কেবল ব্যক্তিগত উদ্ভাবনের উদাহরণই নয়, বরং জ্বালানি খরচ কমাতে এবং পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় স্তরে কী ধরনের উদ্ভাবনী চিন্তা করা যেতে পারে, তার একটি অনুপ্রেরণাও বটে। দীপঙ্করের এই উদ্যোগ আরও অনেক তরুণ উদ্ভাবককে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।