সপ্তাহের শুরুতেই ফের আগুন সবজির দামে! পকেট ফাঁকা জনতার, পড়েছে মাথায় হাত

দেশের আনাচে কানাচে এখন সবজির দামে যেন এক অদ্ভূত রঙের খেলা। পাইকারি বাজারে এক রকম দর, আর খুচরোতে পৌঁছাতেই সেই রং যায় পাল্টে। এই আকাশ-পাতাল ফারাক সাধারণ মানুষের হেঁশেলে ফেলছে গভীর দীর্ঘশ্বাস। বিশেষ করে পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচালঙ্কা, আলু আর কুমড়োর মতো রোজকার সঙ্গীগুলোর দাম নিয়ে যেন উদ্বেগের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।

ধরুন সেই ঝাঁঝালো পেঁয়াজের কথাই। পাইকাররা হাঁকেন ২৫ থেকে ২৮ টাকা কেজি, আর খুচরো বাজারে সেই একই পেঁয়াজ বিকোচ্ছে ২৬ থেকে ৩৬ টাকায়। ছোট পেঁয়াজের ঝাঁজ যেন আরও বেশি – পাইকারিতে ৫২ থেকে ৫৭, আর আপনার পকেট থেকে খসাতে হচ্ছে ৫৪ থেকে ৭৪ টাকা! এই দামের ফারাক শুধু পেঁয়াজেই সীমাবদ্ধ নয়, যেন সব সবজির ভাগ্যেই লেখা আছে এই অমিল।

তবে টমেটোর রাঙা মুখ কিছুটা হলেও স্থির। পাইকারিতে ২৩ থেকে ২৫, আর খুচরোতে ২৪ থেকে ৩৩ টাকা। কিন্তু কাঁচালঙ্কার ঝাঁজ যেন ক্রমশ বাড়ছে – পাইকারিতে ৪৮ থেকে ৫৩, আর আপনার থলিতে টান পড়ছে ৫০ থেকে ৬৯ টাকায়। এই মূল্যবৃদ্ধি যেন মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্তের হেঁশেলের বাজেটকে লঙ্কা বাটার মতোই ঝালিয়ে দিচ্ছে।

বিট, আলু, বটল লাউ, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলার দামেও সেই একই রকম ভিন্নতার ছবি। বিট আর আলুর পাইকারি দর ৩২ থেকে ৩৬, কিন্তু আপনার হাতের থলিতে ঢুকতে ঢুকতে তারা হয়ে যাচ্ছে ৩৪ থেকে ৪৬ টাকা। করলার তেতো স্বাদ যেন আরও তেতো হচ্ছে যখন দেখছেন পাইকারিতে ৩৯ থেকে ৪৩, আর খুচরোতে ৪১ থেকে ৫৬ টাকা।

বাঁধাকপির সবুজ যেন কিছুটা মলিন, কারণ পাইকারিতে ২৪ থেকে ২৭ টাকা হলেও, খুচরোতে তা ২৫ থেকে ৩৫ টাকা। ফুলকপির সাদা রঙেও লেগেছে দামের ছোঁয়া – পাইকারিতে ৩১ থেকে ৩৪, আর আপনার কেনা দামে ৩২ থেকে ৪৫ টাকা।

তবে চমকপ্রদ দামের খেলা দেখাচ্ছে নারকেল আর আমলকী। নারকেল পাইকারিতে ৮১ থেকে ৮৯, আর খুচরোতে ৮৪ থেকে ১১৬ টাকা! আমলকীর টক মিষ্টি স্বাদও যেন তেতো লাগছে যখন দেখছেন পাইকারিতে ৭৫ থেকে ৮৩, আর খুচরোতে ৭৮ থেকে ১০৭ টাকা – অন্যান্য সাধারণ সবজির তুলনায় আকাশ-পাতাল ফারাক।

এই দাম বৃদ্ধির কারণ? শুধু এককভাবে দাম বাড়েনি, বরং কিছু সবজির ক্ষেত্রে মৌসুমী অভাব আর সরবরাহের ঘাটতি পকেট খালি করছে। তার উপর আছে পরিবহণ খরচ, প্রকৃতির খামখেয়ালি আর পাইকারি বাজারের মধ্যস্বত্বভোগীদের অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ।

সরকার বাহাদুর হয়তো দাম নিয়ন্ত্রণে কিছু পরিকল্পনা করছেন, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন এখনও চোখে পড়েনি। তাই সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন – যদি রোজকার প্রয়োজনীয় জিনিসের দামের এত হেরফের হয়, তাহলে সংসার চালানো দায়!

শহর আর গ্রামের বাজারে এই দামের পার্থক্য আরও প্রকট। বিশেষ করে বাজার আর রেশন ব্যবস্থার অস্বচ্ছতার কারণে অনেক জায়গাতেই মানুষকে বেশি দাম দিয়েই সবজি কিনতে হচ্ছে।

মোটকথা, এই সবজির দামের ‘রঙিন’ খেলা শুধু পকেটের উপর চাপ সৃষ্টি করছে না, মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও আনছে পরিবর্তন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত কোনও পদক্ষেপ না নিলে এই সমস্যা আরও গভীর হতে পারে। তখন হয়তো হেঁশেলের রংটাই ফিকে হয়ে যাবে।