৬ বছরে বেতন-পেনশন থেকে ১৫,১২৯ কোটি টাকা কেটে নিয়েছে রাজ্য? বিস্ফোরক হিসেব এল সামনে

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সরকারি কর্মীদের মুখে হাসি ফুটেছিল বটে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ মেটানোর আশ্বাস মিলেছিল। কিন্তু সেই স্বস্তির আবহে এবার এক বিস্ফোরক হিসেব সামনে এল। জানা যাচ্ছে, গত ৬ বছরে নাকি বেতন ও পেনশন থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি কেটে নিয়েছে রাজ্য!

শীর্ষ আদালতের নির্দেশে যখন বকেয়া ডিএ কবে মিলবে, সেই আলোচনায় মুখর সরকারি মহল, তখনই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনলেন এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বকেয়া ডিএ মেটাতে রাজ্যের যা খরচ হবে বলে হিসাব দেওয়া হচ্ছে, তার থেকেও বেশি টাকা সরকার কর্মীদের পকেট থেকে কেটে নিয়েছে।

ঠিক কত টাকা বকেয়া ডিএ মেটাতে খরচ হবে রাজ্যের? সরকারি হিসাব বলছে, অঙ্কটা প্রায় ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ ডিএ-র পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ৪৪২ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা। আর এখানেই মলয় মুখোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক দাবি।

তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০১২-১৩ সাল থেকে ২০১৭-১৮ সালের মধ্যে বেতন ও পেনশন খাতে বরাদ্দ করা হয়েছিল ২ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫১০ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা। কিন্তু খরচ হয়েছে মাত্র ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ৩৮১ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, ১৫ হাজার ১২৯ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা খরচই হয়নি!

এভাবেই প্রতি বছর বাজেটে বেতন ও পেনশন খাতে অর্থ বরাদ্দ হলেও, সরকার সেই অর্থের একাংশ নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি বলে অভিযোগ। এবার সেই তথ্য আদালতে পেশ করে রাজ্য সরকারকে আরও চাপে ফেলা হল।

এই বকেয়া ডিএ প্রযোজ্য কোন সময়ের জন্য? ২০০৮ সালের ১লা এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত, অর্থাৎ মোট ১৪১ মাসের ডিএ বকেয়া হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়কালে কর্মরত বা পেনশনভোগীরাই এই সুবিধার যোগ্য।

কতজন পাবেন এই বকেয়া ডিএ? সরকারি দফতরে কর্মরত প্রায় ২.৫ লক্ষ, স্কুলশিক্ষক প্রায় ৩.৮ লক্ষ এবং পঞ্চায়েত, পুরসভা ও স্বশাসিত সংস্থার প্রায় ১ লক্ষ কর্মী ও পেনশনপ্রাপক এই বকেয়ার সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।