বিশ্ববিদ্যালয়ের ছায়া, আদালতের খাঁচা! পাঁচ মাসের মাথায় ধর্ষকের বিরাট সাজা, ৩০ বছরের কারাদণ্ড

২০২৪ সালের ডিসেম্বরের হিমেল রাতে, এক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের চেনা বিরিয়ানির দোকান যেন দুঃস্বপ্নের প্রবেশদ্বার খুলে দিয়েছিল। আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী শিকার হয়েছিলেন যৌন নির্যাতনের। সেই ঘৃণ্য অপরাধের প্রায় ছয় মাস পর, সোমবার চেন্নাইয়ের বিশেষ আদালত দোষী জ্ঞানশেখরনকে শুনিয়েছে ৩০ বছরের কারাদণ্ডের রায়। শুধু তাই নয়, ৯০ হাজার টাকার জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে তার উপর।

গত সপ্তাহেই জ্ঞানশেখরনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। তার বিরুদ্ধে আনা ১১টি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, তথ্য প্রযুক্তি আইন এবং তামিলনাড়ু নারী হয়রানি নিষিদ্ধকরণ আইনের অধীনে সমস্ত অভিযোগেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

সেই ডিসেম্বরের রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ফুঁসে উঠেছিল রাজপথ, উঠেছিল নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন। বিচারক এম রাজলক্ষ্মী অপরাধের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে এই সাজা ঘোষণা করেছেন। গত বুধবারই তিনি জ্ঞানশেখরনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। উল্লেখ্য, এই লম্পটের বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা ঝুলে রয়েছে বলেও খবর।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে? নির্যাতিতা ছাত্রী পুলিশকে জানিয়েছিলেন, জ্ঞানশেখরন প্রথমে তার এবং তার বন্ধুর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের গোপনে ভিডিও করে। তারপর সেই ভিডিও পরিবারের সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর চলে সেই ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

আদালতের এই রায় কি কিছুটা হলেও শান্তি দেবে সেই traumatized ছাত্রীকে? সমাজের চোখে কি আরও একবার অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হল? হয়তো। তবে আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই রাতের অন্ধকার স্মৃতি আজও হয়তো তাড়া করে বেড়াবে অনেককে।