লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে খাঁড়া নেমে আসার পালা? নয়া ঘোষণা মমতা সরকারের, এই ভুলে বাতিল হতে পারে কিছু অ্যাকাউন্ট

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ক্ষমতায় আসার পর যেন খুলে গিয়েছে এক ভাতার ঝাঁপি। কন্যাশ্রী থেকে রূপশ্রী, বার্ধক্য ভাতা থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার – একের পর এক প্রকল্পের হাত ধরে আর্থিক সাহায্য পৌঁছে যাচ্ছে রাজ্যের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়। পড়ুয়া থেকে বৃদ্ধ, কেউই বাদ যাচ্ছেন না এই উদার হস্ত থেকে।
তবে এই ভাতার স্রোতে এবার লাগতে চলেছে কি রাশ? শোনা যাচ্ছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে শুরু হতে চলেছে কড়াকড়ি। বাতিল হতে পারে বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট। ২৫ বছরের কম বা ৬০ বছরের বেশি বয়সী মহিলারা নাকি আর এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। শুধু তাই নয়, যাদের অ্যাকাউন্টে নেই আধারের যোগ, কিংবা যারা ব্যাঙ্কে কেওয়াইসি জমা দেননি, তাদেরও নাম বাদ পড়তে পারে উপভোক্তাদের তালিকা থেকে।
গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, যাদের অ্যাকাউন্টে গরমিল রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। তাই যদি আপনার অ্যাকাউন্টেও থাকে কোনও অসঙ্গতি, তবে আপনার নাম কাটা যেতে পারে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ভাতার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেছেন, “এই ভাতা মহিলাদের সম্মান, এবং তা সারাজীবন চলবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসবাণী হয়তো কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে উপভোক্তাদের।
তবে প্রশ্ন উঠছে, একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী ভাতার স্থায়িত্বের কথা বলছেন, তখন কেন এই কড়াকড়ি? অনেকের মনেই উঁকি দিচ্ছে আশঙ্কা, হয়তো ভাতার পরিধি কিছুটা ছোট করা হচ্ছে।
এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত কতজনের নাম বাদ যায় এই তালিকা থেকে। আর যাদের নাম থাকবে, তারা কি আগের মতোই নিয়মিতভাবে এই আর্থিক সাহায্য পেতে থাকবেন? মমতার ভাতার ঝাঁপি সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে, তা তো সময়ই বলবে। তবে আপাতত, উপভোক্তাদের মধ্যে একটা চাপা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে – একদিকে প্রাপ্তির আনন্দ, অন্যদিকে তালিকা থেকে বাদ পড়ার শঙ্কা।