বিশেষ: সাত-পাঁচ নয়, এবার ঘুরে আসুন ‘জিরো স্টার’ হোটেল থেকে, কাটান আকাশ ছোঁয়া ব্যতিক্রমী রাত

বিলাসবহুল ‘ফাইভ স্টার’ বা ‘সেভেন স্টার’ হোটেলের ধারণা আমাদের কাছে সুপরিচিত। কিন্তু ‘জিরো স্টার’ হোটেল? এই অভিনব নাম শুনলে অনেকেই চমকে যাবেন। সুইজারল্যান্ডে এমনই এক ব্যতিক্রমী বাণিজ্যিক রাত্রিনিবাসের সন্ধান মিলেছে, যেখানে নেই কোনো দেয়াল, ছাদ, দরজা বা জানালা – কেবল একটি খাট আর সামান্য আসবাবপত্র। অথচ এই ‘শূন্য তারকা’ হোটেলের প্রতি রাতের ভাড়া ৩৫ হাজার টাকারও বেশি!

তারকারা আসলে অতিথিরাই: রিকলিন ভাইদের দর্শন
‘নাল স্টার্ন স্যুট’ (Null Stern Suite) নামের এই হোটেলটি আসলে সুইস শিল্পী ফ্র্যাংক রিকলিন ও প্যাট্রিক রিকলিনের একটি ‘ইনস্টলেশন আর্ট’। দুই ভাইয়ের মতে, “এই হোটেলে যারা থাকবেন, তারাই আমাদের তারকা।” তাই তারা এটিকে সগর্বে ‘জিরো স্টার হোটেল’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। এই ব্যতিক্রমী ধারণা নিয়ে কাজ করা রিকলিন ভ্রাতৃদ্বয় পরিবেশগত এবং সামাজিক সমস্যাগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই এই হোটেলের নকশা করেছেন।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যাট্রিক রিকলিন বলেন, “এখন ঘুমানোর সময় নয়, কিছু একটা করার সময়।” এই বার্তা দিতেই তারা অতিথিদের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে যুদ্ধ পরিস্থিতি, নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। তাদের এই অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার পাশাপাশি গভীর সামাজিক বার্তা বহন করে।

অদ্ভুত অবস্থান, অসাধারণ অভিজ্ঞতা
নাল স্টার্ন স্যুটের শাখাগুলোও অদ্ভুত সব জায়গায় অবস্থিত। কখনো রাস্তার ধারে একটি পেট্রলপাম্পের পাশে, আবার কখনো পাহাড়ের চূড়ায় মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে। দেয়াল বা ছাদ না থাকায় বিছানায় শুয়েই ছবির মতো সুন্দর সুইজারল্যান্ডের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায় – কোনো জানালা বা পর্দা খোলার প্রয়োজন হয় না।

তবে, দেয়াল-ছাদ না থাকলেও অতিথিদের খাবারদাবারের ব্যবস্থা বেশ ভালো। সকালে অতিথিদের বিছানাতেই পৌঁছে দেওয়া হয় নাশতা।

আকাশছোঁয়া চাহিদা: অপেক্ষারত সাড়ে ছয় হাজার নাম!
২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, নাল স্টার্ন হোটেলে এক রাত কাটানোর জন্য সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ অপেক্ষমাণ তালিকায় আছেন। স্বাভাবিকভাবেই, ২০২৩ সাল জুড়ে এই হোটেলের একটি দিনও ফাঁকা ছিল না। তাই যারা এই অনন্য অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাদের ‘রিজার্ভেশন’-এর জন্য ই-মেইল করে দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকায় যুক্ত হতে হবে।

‘জিরো স্টার’ হোটেলের এই ধারণা একদিকে যেমন শিল্প ও সৃজনশীলতার এক অনন্য উদাহরণ, তেমনই অন্যদিকে এটি আধুনিক জীবনের প্রচলিত ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন এক চিন্তার খোরাক জোগাচ্ছে।