৫৭ মিলিয়ন বছর আগের ‘জল-দানব’! এখনও রয়েছে এদের বংশধর, জানেন সেটা কি?

ফসিল—যেন সময়ের সিন্দুক, যার ভাঁজে লুকানো থাকে অতীতের বিস্ময়কর সব কাহিনি। তেমনই এক টাইম মেশিনের হাত ধরে বিজ্ঞানীরা পেলেন এক অভাবনীয় আবিষ্কার। দক্ষিণ নিউজিল্যান্ডের মাটি ফুঁড়ে উঠে এল ৫৭ মিলিয়ন বছর আগের এক দৈত্যাকার পেঙ্গুইনের জীবাশ্ম!

এই ফসিল দেখেই চক্ষু চড়কগাছ বিজ্ঞানীদের। আজকের নিরীহ পেঙ্গুইনের সঙ্গে তার যেন আকাশ-পাতাল তফাৎ। আনুমানিক ১৫৪ কেজি ওজন! ভাবা যায়? এ যেন রূপকথার কোনও জলজ দৈত্য। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই বিস্ময় জাগানো পেঙ্গুইনের রহস্য উন্মোচন করেছেন। জীবাশ্মটি ঠাঁই পেয়েছে নিউজিল্যান্ডের এক জাদুঘরে।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই দানব পেঙ্গুইনের রাজত্ব ছিল সেই সময়, যখন ডাইনোসররা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। সাধারণ পেঙ্গুইনদের তুলনায় এরা ছিল বিশালদেহী, তাদের ওজনই তার প্রমাণ। শুধু তাই নয়, এদের পাখনাও ছিল অনেক বড় ও শক্তিশালী। জলের গভীরে এরা একচ্ছত্র অধিপতি ছিল।

সমুদ্রের আনাচে-কানাচে ছিল এদের অবাধ বিচরণ। গভীর জলে দীর্ঘক্ষণ থাকার ক্ষমতা রাখত এরা, সমুদ্রের অন্য প্রাণীরাও তাদের বিশাল আকার দেখে সমীহ করত। বরফের ঠান্ডাও তাদের কাবু করতে পারত না। তবে কালের নিয়ম বড় কঠিন। একসময় যখন এদের খাদ্যের অভাব দেখা দিল, তখন তারা বাধ্য হয়ে ডাঙার দিকে আসতে শুরু করে। আর সেখানেই ঘটে তাদের পতন। ডাঙার প্রাণীদের হাতেই শেষ হয় এই জল-দানবদের রাজত্ব।

এই ফসিল যেন এক জীবন্ত ইতিহাস। সময়ের অতলান্ত থেকে উঠে আসা এই দৈত্যাকার পেঙ্গুইন জানান দেয়, বিবর্তনের পথ কতটা বিচিত্র আর বিস্ময়কর হতে পারে।