জামাইষষ্ঠীতে মেয়ে জামাইয়ের মঙ্গল কামনায় কী কী করবেন? দেখেনিন একনজরে

জামাই ষষ্ঠী কেবল জামাইকে আপ্যায়ন বা ভূরিভোজের দিন নয়, এটি জামাইয়ের মঙ্গল কামনায় পালিত এক শুভ উৎসব। এই দিনে কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চললে মেয়ে ও জামাই উভয়েরই মঙ্গল হয় এবং সারা বছর সুখ-শান্তিতে কাটে বলে বিশ্বাস করা হয়। উৎসবের এই বিশেষ দিনে কোন কোন রীতি মেনে চললে আপনার মেয়ে-জামাইয়ের জীবনে আশীর্বাদ নেমে আসবে, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
মেয়ে-জামাইয়ের মঙ্গল কামনায় যা যা করবেন:
১. দইয়ের ফোঁটা: জামাই ষষ্ঠীর দিন জামাই বাড়িতে পা রাখার পরেই তার কপালে দইয়ের ফোঁটা দেওয়া অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এই রীতি জামাইয়ের মঙ্গল ডেকে আনে।
২. হলুদ পোশাক উপহার: জামাইকে এই দিন হলুদ রঙের পোশাক উপহার দিতে পারেন। আশীর্বাদ গ্রহণ করার সময় জামাই যদি এই পোশাকে বসে, তাহলে তা আরও বেশি মঙ্গলজনক হয়।
৩. হলুদ সুতোয় দূর্বা-ফুলের ডরি: জামাই ষষ্ঠীর দিন হলুদ রঙের সুতোয় দূর্বা এবং ফুলের ডরি বেঁধে মা ষষ্ঠীর কাছে রেখে পুজো দেওয়ার রীতি রয়েছে। এই রীতি জামাইয়ের পাশাপাশি মেয়েরও মঙ্গল কামনা করে।
৪. তেল-হলুদ তিলক: দেবী ষষ্ঠীর পুজোর সময় তার চরণে কিছুটা তেল হলুদ নিবেদন করা হয়। পুজো হয়ে গেলে এই তেল-হলুদ দিয়ে জামাইয়ের কপালে তিলক এঁকে দিন। এতে মা সন্তুষ্ট হন এবং পুজো নির্ভুল হয়।
৫. ডাবের জল পরিবেশন: জৈষ্ঠ্যের গরমে জামাই ষষ্ঠী পালিত হয়। তাই তৃষ্ণা নিবারণের জন্য জামাইকে সাধারণ জলের বদলে ডাবের জল পরিবেশন করুন। ডাবের জল পরিবেশন অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
৬. একসঙ্গে আগমন: জামাই ষষ্ঠীর দিন জামাই যেন একা শ্বশুরবাড়ি না আসে, সেদিকে নজর রাখুন। মেয়ে ও জামাই একসঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে আসাই এই দিনের রীতি। এটি সম্পর্কের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
৭. পায়েস ও মিষ্টান্ন: জামাই ষষ্ঠীর দিনে শাশুড়িরা খাবারের এলাহি আয়োজন করে থাকেন। তবে খাবারের তালিকায় পায়েস এবং অন্যান্য মিষ্টান্ন অবশ্যই রাখবেন। এই দিনে পায়েস ও মিষ্টান্ন পরিবেশন অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
এই নিয়মগুলো মেনে চললে জামাই ষষ্ঠীর উৎসব আরও অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং পরিবারের সকলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে।