‘১৫ মিনিটের ব্যাপার’-বলে নিয়ে যায় ডাক্তার, ওটি থেকে বেরোল ৪ বছরের শিশুর নিথর দেহ

“মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যাপার।” – অপারেশন থিয়েটারে ছেলেকে ঢোকানোর আগে ডাক্তার এই আশ্বাসই দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ১৫ মিনিটেই সব শেষ! সাদা কাপড়ে মোড়া সন্তানের নিথর দেহ নিয়ে হাসপাতাল ছাড়তে হলো এক বাবাকে। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে দিল্লির পাণ্ডবনগরে, যেখানে একটি ছোট্ট অস্ত্রোপচারের জন্য ভর্তি হয়েছিল মাত্র চার বছরের বিরাজ শর্মা।
গত বৃহস্পতিবার বিরাজ শর্মাকে ইস্ট দিল্লির একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল একটি ছোট অস্ত্রোপচারের জন্য। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির এক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
বিরাজের বাবা গৌরব শর্মা, যিনি নয়ডার একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করেন, জানান এই অস্ত্রোপচারের আগে ডাক্তার কিছু মেডিক্যাল টেস্ট করানোর কথা বলেছিলেন। নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন, অস্ত্রোপচারের জন্য বিরাজ শারীরিকভাবে ফিট কি না। গৌরব জানান, সেই সব রিপোর্ট স্বাভাবিকই এসেছিল।
২৯ মে সকালে ডাক্তার বিরাজকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলেন। সেই মতো ভর্তি করানো হয়। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ছেলেকে অ্যাপ্রন পরিয়ে যখন ওটিতে ঢোকানো হচ্ছিল, ডাক্তার গৌরবকে বলেছিলেন, “একদম চিন্তা করবেন না। ১৫ মিনিটের ব্যাপার।”
কিন্তু এরপরই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। সকাল ৯টা ১৫ নাগাদ ডাক্তার ওটি থেকে বেরিয়ে এসে জানান, অপারেশনের আগে বিরাজকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল, তাতে কিছু রিঅ্যাকশন হয়েছে। শিশুটি জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে এবং পরিস্থিতি ‘ক্রিটিক্যাল’।
গৌরবের অভিযোগ, ডাক্তার তাঁকে ওটির ভিতরে নিয়ে যান। সেখানে তিনি যে দৃশ্য দেখেন, তা ছিল ভয়ঙ্কর। গৌরবের কথায়, “ইলেট্রিক্যাল পাম্প দিয়ে ছেলের বুকে পাম্প করা হচ্ছে। তখন ওরা আমাকে বলছে, ছেলেকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। ছেলের নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে, নখের রঙ নীল। সারা শরীর ঠান্ডা। নড়াচড়া করছে না ছেলেটা।” এরপরও সেই নিথর ছেলেকে নিয়েই আরেকটি হাসপাতালে ছুটে যান গৌরব। কিন্তু সেখানে দেখেই ডাক্তাররা জানিয়ে দেন, ছেলেটি আর বেঁচে নেই।
শুক্রবার ছোট্ট সেই দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। এরপরই পাণ্ডবনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন গৌরব। ডিসিপি ইস্ট অভিষেক ধানিয়া জানিয়েছেন, এই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি ছোট অস্ত্রোপচারের জন্য ভর্তি হওয়া একটি ৪ বছরের শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে হাসপাতালের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে, যা এখন তদন্তাধীন।