‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভেঙে পড়েছিল ভারতের যুদ্ধবিমান? স্পষ্ট করলেন CDS অনিল চৌহান

সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সংঘাত নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান। সিঙ্গাপুরে শাংরি-লা ডায়ালগ নিরাপত্তা সম্মেলনে ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সেই দাবি সরাসরি খারিজ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল পাকিস্তান চারটি রাফালসহ ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে।

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাবে ৭ মে ভারতীয় বিমান বাহিনী পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এর পরই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এক উন্মুক্ত সংঘাতের সৃষ্টি হয়। পাকিস্তান দাবি করে যে তারা কমপক্ষে ৬টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। তবে, জেনারেল চৌহান এখন স্বীকার করেছেন যে প্রথম দিনেই ভারতের কিছু বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু তিনি ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যাটি জানাননি। ‘অপারেশন সিঁদুরে’ ভারতের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কেন ধ্বংস হয়েছিল, কী ভুল হয়েছিল, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। সংখ্যাটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এবং এর পর আমরা কী করেছি, সেটাই আসল।”

কৌশলে পরিবর্তন, আরও গভীর অনুপ্রবেশ
এর আগে ভারতীয় বিমান ধ্বংসের বিষয়ে সেনাবাহিনী প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছিল। সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের বায়ুসেনার এয়ার অপারেশনের ডিজি এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী বলেছিলেন যে ক্ষতি যেকোনো যুদ্ধের অংশ। তবে, সমস্ত ভারতীয় পাইলট নিরাপদে ফিরে এসেছেন। তিনি বলেছিলেন, “আমরা যুদ্ধের মধ্যেই আছি এবং ক্ষতিও এরই একটি অংশ। প্রশ্ন হলো, আমরা কি আমাদের লক্ষ্য অর্জন করেছি? উত্তর হলো হ্যাঁ। এই মুহূর্তে, আমি (বিমানের ক্ষতি) বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না, কারণ আমরা এখনও যুদ্ধে আছি। আমাদের সমস্ত পাইলট বাড়ি ফিরে এসেছেন।”

চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল চৌহান জানান, সশস্ত্র বাহিনী তাদের কৌশলগত ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে, সেগুলো সংশোধন করে এবং ‘অপারেশন সিঁদুরের’ অংশ হিসেবে দুই দিন পর আবারও দ্রুত পাকিস্তানকে টার্গেট করে। জেনারেল চৌহান বলেন, “ভালো কথা হলো আমরা আমাদের কৌশলগত ভুল বুঝতে পেরেছিলাম, সংশোধন করেছিলাম এবং তারপর দুই দিন পর তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছিলাম। আমরা আমাদের সমস্ত বিমান আবার উড়িয়েছি, দীর্ঘ পরিসরে টার্গেটে আঘাত করেছি।” সিডিএস জেনারেল চৌহান জানান, ভারত ৭, ৮ এবং ১০ মে ব্যাপকভাবে প্রতিশোধ নেয় এবং পাকিস্তানের বিমান ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তিনি বলেন, “আমরা পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সুনির্দিষ্টভাবে হামলা চালিয়েছি। ১০ মে আমরা সকল ধরনের বিমান এবং অস্ত্র ব্যবহার করেছি।”

প্রসঙ্গত, সেনাবাহিনী আগেই জানিয়েছিল যে তাদের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানের কমপক্ষে আটটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানও স্বীকার করেছে যে তাদের কিছু বিমান ঘাঁটিতে আঘাত করা হয়েছে, তবে তারা দাবি করেছে যে ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম।

পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনা নাকচ, চিনের সরাসরি সমর্থন নেই
জেনারেল অনিল চৌহান আরও স্পষ্ট করে বলেছেন যে এই সংঘাত কখনোই পরমাণু যুদ্ধের কাছাকাছি যায়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের রেখা সর্বদা উন্মুক্ত ছিল, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস হলো, প্রচলিত সামরিক অভিযান এবং পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের মধ্যে অনেক সুযোগ রয়েছে। পুরো সংঘাতের সময় উভয় দেশের সামরিক নেতৃত্ব বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীল আচরণ করেছে, যার কারণে উত্তেজনা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।”

চৌহান বলেন যে সংঘর্ষের সময় চিনের কাছ থেকে কোনো ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জ পায়নি ভারত। তিনি বলেন, “২২ এপ্রিলের পর থেকে আমাদের উত্তর সীমান্তে কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপ দেখা যায়নি।” পাকিস্তানকে স্যাটেলাইট চিত্র বা রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য চিন সরবরাহ করেছে কিনা জানতে চাইলে চৌহান বলেন যে এই ধরনের তথ্য এখন বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে এবং কেবল চিন থেকে নয়, অন্যান্য উৎস থেকেও নেওয়া যেতে পারে।