আঁধার পেরিয়ে আলোর হাতছানি! আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য সংকটে ভারতের মানবিক স্পর্শ

যখন চারদিকে শুধু হতাশার সুর, তখন এক প্রতিবেশী বন্ধুর হাত যেন নিয়ে এল একরাশ অক্সিজেন। চরম স্বাস্থ্য সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা আফগানিস্তানের দিকে সাহায্যের উষ্ণ হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। দ্রুততার সঙ্গে ১১,০০০ ডোজ টিকাদান পৌঁছে গেল কাবুলে, যা এই মুহূর্তে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির জন্য এক আশার আলো। এই জীবনদায়ী টিকার মধ্যে রয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও মেনিনজাইটিসের মতো মারণ রোগের প্রতিষেধক, যা এখন আফগানিস্তানের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন।

ভারতের এই মানবিক সহায়তার নিদর্শন যেন বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পাঠানো ভ্যাকসিনগুলির মধ্যে ৫,৫০০ ডোজ ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং ৫,৫০০ ডোজ মেনিনজাইটিস ভ্যাকসিন রয়েছে। আফগান সরকারের বিশ্বাস, এই টিকাগুলির মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে। আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কৃতজ্ঞতাপূর্ণ বিবৃতিতে স্পষ্ট, “এই টিকাগুলি আমাদের দেশের হাজার হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভারত সরকারের এই মানবিক সহায়তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”

আফগানিস্তানে স্বাস্থ্য সংকট ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বহু অঞ্চলে মৌলিক চিকিৎসার অভাব প্রকট। বিশেষত শিশু ও বয়স্করা ভয়াবহ সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন। ইনফ্লুয়েঞ্জা ও মেনিনজাইটিসের মতো রোগের বাড়বাড়ন্ত পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিষেধক পাঠানো ছিল সময়ের দাবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটি আরও বড় জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত।

তবে ভারত বরাবরের মতোই বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়েছে। করোনা মহামারির সময়েও ভারত প্রথম দিকে টিকা ও ওষুধ পাঠিয়ে কাবুলকে সহায়তা করেছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারের এই তড়িৎ পদক্ষেপ ভারত-আফগান সম্পর্কের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতিতে সেই আন্তরিক সুরই ধ্বনিত হয়েছে, “আফগান জনগণের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং হৃদয়ের। আমরা সবসময় মানবিক দিক থেকে তাদের পাশে ছিলাম এবং থাকব।”

দিল্লির এই মানবিক মুখ আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলির মতে, যখন বহু দেশ আফগানিস্তানকে উপেক্ষা করছে, তখন ভারতের এই দ্রুত পদক্ষেপ দেশটির মানুষের জন্য এক নতুন জীবনের বার্তা নিয়ে এসেছে। রাষ্ট্রসংঘের এক বিবৃতিতে ভারতের এই তাৎক্ষণিক সহায়তাকে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য পরিষেবা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সহায়তার মধ্যে দিয়ে ভারত ও আফগানিস্তানের কূটনৈতিক ও মানবিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হল বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতি বিশেষজ্ঞরা। ভারত শুধু রাজনৈতিক মিত্র নয়, কঠিন পরিস্থিতিতে মানবিকভাবে পাশে দাঁড়িয়ে বন্ধুত্বের এক নতুন সংজ্ঞা দিল। যেখানে বিশ্ব হয়তো আফগানিস্তানের ক্রমশ অবনতিশীল পরিস্থিতির দিকে চোখ বন্ধ করে রেখেছে, সেখানে ভারত আবারও প্রমাণ করল – বন্ধু শুধু মুখের কথা নয়, প্রয়োজনে পাশে থাকার নাম। এই সহায়তা আফগান জনগণের কাছে শুধু ভ্যাকসিন নয়, একরাশ আশা, এক গভীর ভালোবাসার প্রতীক। কৃতজ্ঞ আফগানিস্তান, গর্বিত ভারত।