পাকিস্তানকে সমর্থন করার জের, ইন্ডিগোকে তুর্কি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের নির্দেশ!

ভারত ও তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবার প্রভাব ফেলছে বাণিজ্যিক সম্পর্কে। ভারত সরকার ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সকে তুরস্কের এয়ারলাইন্সের (Turkish Airlines) সঙ্গে তাদের বিমান লিজ চুক্তি আগামী তিন মাসের মধ্যে বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন এবং অস্ত্র-সরবরাহ করার অভিযোগ ওঠার পর তুরস্কের বিরুদ্ধে ভারতের এটি এক কঠোর পদক্ষেপ।

‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন তুরস্কের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে অন্তত ৪০০টি ড্রোন সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছিল, যা ভারতের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহৃত হয়। এই ঘটনার পরই ভারত তুরস্কের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে। তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করা হয় এবং একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তুরস্কের সঙ্গে থাকা চুক্তি বাতিল করার কথা জানায়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার বিমান পরিবহন খাতেও আঘাত হানল ভারত।

বেসামরিক বিমান চলাচল দপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেল (DGCA) শুক্রবার (৩১ মে) ঘোষণা করেছেন যে, ইন্ডিগোকে আগামী ৩১শে আগস্টের মধ্যে তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে তাদের লিজ চুক্তি বাতিল করতে হবে।

এর আগেই, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তুরস্কের সংস্থা সেলেবি এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস ইন্ডিয়ার (Celebi Airport Services India) সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স অবিলম্বে তুলে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। মুম্বই, নয়াদিল্লি, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, আমেদাবাদ-সহ দেশের ৯টি বিমানবন্দরে একাধিক উড়ান সংস্থার হয়ে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং-এর কাজ করত সেলেবি। এই পদক্ষেপের পরই ইন্ডিগোর সঙ্গে তুর্কি এয়ারলাইন্সের চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

বর্তমানে, ইন্ডিগো তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে স্বল্প লিজে দুটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর বিমান পরিচালনা করে, যা দিল্লি এবং মুম্বাই থেকে ইস্তাম্বুল পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট চালায়। এই লিজের মেয়াদ ৩১শে মে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ইন্ডিগো এই চুক্তি আরও ছয় মাস বৃদ্ধির জন্য বিমান মন্ত্রকের কাছে আবেদন জানিয়েছিল, কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

একটি বিবৃতিতে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, যাত্রীদের দুর্ভোগ এড়াতে আরও তিন মাসের জন্য ওই রুটে বিমান চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে, এই বর্ধিতকরণকে ‘এককালীন, শেষ এবং চূড়ান্ত’ বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইন্ডিগোর প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে এই তিন মাসের জন্য লিজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং এরপর এই মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।

এই সিদ্ধান্ত ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে একটি দৃঢ় বার্তা বহন করে, যেখানে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আড়ালে শত্রুদের সহায়তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।