আইনের রক্ষককেই মা-বাপ তুলে অশ্রাব্য গালিগালাজ! এর পরিণতি ঠিক কী হতে পারে? ফের আইনি গেরোয় অনুব্রত?

ফের বিতর্ক আর আইনি জটিলতা যেন পিছু ছাড়ছে না তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের। বোলপুর থানার আইসিকে মা-বাপ তুলে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগে নতুন করে খবরের শিরোনামে তিনি। এই ‘কীর্তি’র জেরে আজ শনিবার অনুব্রত মণ্ডলকে বোলপুর থানায় হাজিরা দেওয়ার নোটিশ ধরানো হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ফের কি শ্রীঘরে যেতে হতে পারে দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই নেতাকে?

অবশ্য রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের পুলিশের উপর চোটপাট করার ঘটনা এই রাজ্যে নতুন কিছু নয়। তবে আইনের রক্ষক যখন হেনস্থার শিকার হন, তখন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নিতে পারে পুলিশ? আইন স্পষ্ট বলছে, কোনো আইসি বা উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাকে কেউ গালিগালাজ, মারধোর বা প্রাণনাশের হুমকি দিলে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার পুলিশের রয়েছে।

আইনের কোন ধারায় বাঁধা পড়বেন অনুব্রত? ফৌজদারি ভীতিপ্রদর্শন, অর্থাৎ কাউকে প্রাণনাশ, পরিবারের ক্ষতি বা সম্মানহানির হুমকি দিলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫১ ধারায় মামলা রুজু হতে পারে। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় শাস্তিই হতে পারে। হুমকির মাত্রা কম গুরুতর হলে কারাদণ্ডের মেয়াদ ২ বছর পর্যন্ত হতে পারে। সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিতে ভীতিপ্রদর্শক ভাষা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে। এক্ষেত্রে শারীরিক সংস্পর্শ না থাকলেও গালিগালাজ বা হুমকিমূলক কথাবার্তাও অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়াও, কাউকে অপমান করা যাতে সে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয় এবং শান্তিভঙ্গ হয়, তাহলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮২ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ মাস কারাদণ্ড, জরিমানা বা দুটোই হতে পারে। জনসমক্ষে অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করে মানহানি ঘটালে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৯ ধারা অনুযায়ী ৩ মাস কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

এই সমস্ত ধারার অধীনে FIR নথিভুক্ত করতে পারে পুলিশ। এক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণ হিসেবে ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং এবং প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হুমকির মাত্রা অনুযায়ী পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করতে পারে। ঘটনার সংবেদনশীলতার ওপর নির্ভর করে অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিন পাবেন কিনা, তা নির্ধারিত হবে।

এখন দেখার, অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়। ফের কি আইনি জালে জড়িয়ে পড়তে চলেছেন ‘কেষ্ট’? উত্তর দেবে সময়। তবে আপাতত, বোলপুরের রাজনৈতিক আকাশে ফের এক নতুন মেঘের ঘনঘটা।